প্রতিবন্ধী কোন মানসিক রোগ নয় এটা এক ধরনের অক্ষমতা, যা চিকিৎসা দ্বারা ভাল করা যায় না। তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য বিশেষ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা প্রয়োজন এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে ২০১২ সালে দিনাজপুুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরসভাধীন ধনতলা (ঝারবাড়ী) দিনাজপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সাবেক কো-অপারেটিভ ব্যাংক ভবনে এলাকার অসহায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক ছেলেমেয়েদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সেতাবগঞ্জ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করতে যিনি মূল ভুমিকা রাখেন তিনি হলেন বনগাঁ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুজন কুমার মহন্ত। তার একমাত্র মেয়েয় অবন্তিকা মহন্ত একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। মেয়ের চিকিৎসার জন্য ভারত সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ও ডাক্তারদের সাথে পরামর্শ করে তিনি উপলব্দি করেন যে, বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে পারলে সমাজে এরা নিজের জায়গা করে নিতে সক্ষোম হবে। তার নিজের মেয়ের কথা চিন্তার পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের কথা ভেবেই এবং দিনাজপুুর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনেওয়াজ এর পরামর্শ ক্রমেই তিনি সেতাবগঞ্জ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্কুলটিকে একটি ভাল স্কুলে পরিনত করতে তিনি সহায়তা নেন একই এলাকার সমাজসেবক মঞ্জুর হাবিব তুষারের। এই মঞ্জুর হাবিব তুষারের পিতাও ছিলেন একজন প্রতিবন্ধী। স্কুলের জন্য সেতাবগঞ্জ মুশিদহাট মালিপাড়ায় স্কুলের জন্য ১৫ শতক জমি দান করেন দাতা মঞ্জুর হাবীব তুষার। বর্তমানে সে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।  ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ এর মধ্যে সেতাবগঞ্জ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় সুুইড বাংলাদেশ কর্তৃক প্রাথমিক অনুুমোদন, সমাজসেবা কর্তৃক নিবন্ধন লাভ করেচেন যার নং- দিনাজ-২৩৭১/১৩। এছাড়াও ১১৭ জন ছাত্রছাত্রীর বিপরীতে ১ জন প্রধান শিক্ষক ৭  জন  সহকারী শিক্ষক, ৩ জন শিক্ষা সহায়ক, পিয়ন ১ জন ও ১ জন ভ্যান চালকের বেতন ভাতার জন্য ইতিমধ্যে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ নিলুফার ইয়াসমিন ছুটিতে থাকায় ম্যানেজিং কমিটির সাধারন সম্পাদক সুজন কুমার মহন্ত জানান, বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য ১৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী কার্যকরি কমিটি রয়েছে। বুুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের সপ্তাহে ৫দিন ক্লাশ নেওয়া হয়। এজন্য স্কুলের নিজেস্ব ভ্যান ও অটো রিক্সা রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট পোষাক। এছাড়া বয়স অনুুযায়ী মা ও শিশু শ্রেণী, শিশু শ্রেণী, বিশেষ শিশু শ্রেণী ও বৃত্তি মূলক পৃথক পৃথক ক্লাশ রয়েছে।

অনেক ছাত্রের অভিভাবকরা জানান, স্কুলে আসার আগে তাদের ছেলে মেয়েরা একপ্রকার ঘরবন্দি অবস্থায় থাকতো । সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলেমেয়েরা তাদের সাথে মিশতো না বা খেলতো না কিন্তুুু এখন আমাদের প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েরা স্কুলে আসার পর থেকেই তাদের জীবন যাত্রার মান পাল্টে গেছে। নিয়মিত স্কুলে আসা, পিটি করা, খেলাধুলা করা ও শিক্ষকদের সাথে ভাব আদান প্রদান করায় তারা নিজেদের মত করে চলতে শিখছে। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদর আপন ভেবে তাদেরকেও সমাজে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করার জন্য এবং একজন সুস্থ মনের মানুষ হিসেবে যতটুকু সম্ভব সেভাবে মানুষ করার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন।

শিক্ষকরা প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলাধূলা, গান বাজনার প্রশিক্ষন দিচ্ছেন। ঘরে বন্দি না থেকে কারো বোঝা না হয়ে প্রতিবন্ধীরাও সমাজে তাদের স্থান করে নিতে নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছেন যা দেখে অন্যান্য প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েরা উৎসাহিত হচ্ছেন। সেতাবগঞ্জ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুলটি প্রতিবন্ধীদের মাঝে যে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে সেটা যেন গোটা উপজেলার প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এটাই সবার কাম্য।

: প্রতিবন্ধী কোন মানসিক রোগ নয় এটা এক ধরনের অক্ষমতা,  যা চিকিৎসা দ্বারা ভাল করা যায় না। তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য বিশেষ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা প্রয়োজন এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে ২০১২ সালে দিনাজপুুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরসভাধীন ধনতলা (ঝারবাড়ী) দিনাজপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সাবেক কো-অপারেটিভ ব্যাংক ভবনে এলাকার অসহায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক ছেলেমেয়েদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সেতাবগঞ্জ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করতে যিনি মূল ভুমিকা রাখেন তিনি হলেন বনগাঁ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুজন কুমার মহন্ত। তার একমাত্র মেয়েয় অবন্তিকা মহন্ত একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। মেয়ের চিকিৎসার জন্য ভারত সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ও ডাক্তারদের সাথে পরামর্শ করে তিনি উপলব্দি করেন যে, বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে পারলে সমাজে এরা নিজের জায়গা করে নিতে সক্ষোম হবে। তার নিজের মেয়ের কথা চিন্তার পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের কথা ভেবেই এবং দিনাজপুুর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনেওয়াজ এর পরামর্শ ক্রমেই তিনি সেতাবগঞ্জ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্কুলটিকে একটি ভাল স্কুলে পরিনত করতে তিনি সহায়তা নেন একই এলাকার সমাজসেবক মঞ্জুর হাবিব তুষারের। এই মঞ্জুর হাবিব তুষারের পিতাও ছিলেন একজন প্রতিবন্ধী। স্কুলের জন্য সেতাবগঞ্জ মুশিদহাট মালিপাড়ায় স্কুলের জন্য ১৫ শতক জমি দান করেন দাতা মঞ্জুর হাবীব তুষার। বর্তমানে সে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।  ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ এর মধ্যে সেতাবগঞ্জ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় সুুইড বাংলাদেশ কর্তৃক প্রাথমিক অনুুমোদন, সমাজসেবা কর্তৃক নিবন্ধন লাভ করেচেন যার নং- দিনাজ-২৩৭১/১৩। এছাড়াও ১১৭ জন ছাত্রছাত্রীর বিপরীতে ১ জন প্রধান শিক্ষক ৭  জন  সহকারী শিক্ষক, ৩ জন শিক্ষা সহায়ক, পিয়ন ১ জন ও ১ জন ভ্যান চালকের বেতন ভাতার জন্য ইতিমধ্যে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ নিলুফার ইয়াসমিন ছুটিতে থাকায় ম্যানেজিং কমিটির সাধারন সম্পাদক সুজন কুমার মহন্ত জানান, বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য ১৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী কার্যকরি কমিটি রয়েছে। বুুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের সপ্তাহে ৫দিন ক্লাশ নেওয়া হয়। এজন্য স্কুলের নিজেস্ব ভ্যান ও অটো রিক্সা রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট পোষাক। এছাড়া বয়স অনুুযায়ী মা ও শিশু শ্রেণী, শিশু শ্রেণী, বিশেষ শিশু শ্রেণী ও বৃত্তি মূলক পৃথক পৃথক ক্লাশ রয়েছে।

অনেক ছাত্রের অভিভাবকরা জানান, স্কুলে আসার আগে তাদের ছেলে মেয়েরা একপ্রকার ঘরবন্দি অবস্থায় থাকতো । সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলেমেয়েরা তাদের সাথে মিশতো না বা খেলতো না কিন্তুুু এখন আমাদের প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েরা স্কুলে আসার পর থেকেই তাদের জীবন যাত্রার মান পাল্টে গেছে। নিয়মিত স্কুলে আসা, পিটি করা, খেলাধুলা করা ও শিক্ষকদের সাথে ভাব আদান প্রদান করায় তারা নিজেদের মত করে চলতে শিখছে। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদর আপন ভেবে তাদেরকেও সমাজে সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করার জন্য এবং একজন সুস্থ মনের মানুষ হিসেবে যতটুকু সম্ভব সেভাবে মানুষ করার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন।

শিক্ষকরা প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলাধূলা, গান বাজনার প্রশিক্ষন দিচ্ছেন। ঘরে বন্দি না থেকে কারো বোঝা না হয়ে প্রতিবন্ধীরাও সমাজে তাদের স্থান করে নিতে নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছেন যা দেখে অন্যান্য প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েরা উৎসাহিত হচ্ছেন। সেতাবগঞ্জ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুলটি প্রতিবন্ধীদের মাঝে যে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে সেটা যেন গোটা উপজেলার প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এটাই সবার কাম্য।

শেখ মোঃ জাকির হোসেন । দিনাজপুর প্রতিনিধি