দিনাজপুরের মিষ্টি পানিতে সুস্বাদু গলদা চিংড়ী বা সাদা সোনা চাষ

লোনা জলের বেড়ে ওঠা সুস্বাদু গলদা চিংড়ী বা সাদা সোনা এখন দিনাজপুরের মিষ্টি পানিতে চাষ হচ্ছে। তাই দিনাজপুরের বিরামপুরের বিভিন্ন পুকুরে এই গলদা চিংড়ী চাষ করে লাভবান হয়েছেন অনেক মাছ চাষী।

অনেক মাছ চাষী লাভবান হওয়ায় ব্যাপক হারে এই এলাকায় গলদা চিংড়ী চাষের দিকে ঝুকছে। গলদা চিংড়ী দেশের মধ্যে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশেও এই মাছ রপ্তানী করে ব্যাপক লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই এলাকার মাছ চাষীরা। বিরামপুর উপজেলা মৎস্য অফিস গত ২০১৫ সালে পরীক্ষামুলক গলদা চিংড়ী চাষের জন্য ৩ দিনের প্রশিক্ষন দিয়ে ২২জন চাষীকে ৫০টি করে গলদা চিংড়ীর পোনা দেয়। এরপর এই পোনা চাষের সাফল্যের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে এই গলদা চিংড়ী ব্যাপকভাবে চাষ শুরু হয়। গলদা চিংড়ী চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন এমন একজন মাছ চাষী ফয়েজ মোহাম্মদ চৌধুরী মুরাদ। তার সাথে বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউপির একইর গ্রামের তার পুকুরের সামনে কথা হয়। ওই এলাকায় তার আরও দুটি পুকুরে এই গলদা চিংড়ী চাষ করছে।

এরকম সফল গলদা চিংড়ী চাষী ফয়েজ মোহাম্মদ চৌধুরী জানায়, ২য় দফায় গত বছরের জুন মাসে পার্বতীপুরের সরকারী মৎস্য হ্যাচারী থেকে গলদার পোনা ১০টাকা দরে ১৪হাজার গলদা চিংড়ী পোনা নেয়। এসময় মৎস্য অফিসও ১৩হাজার পোনা ফ্রি দেয়। এসব পোনা ছাড়ার ৪৫দিন নার্সিং করার পর ২০হাজার পোনা চাষের খাবারও মৎস্য অফিস সরবরাহ করে। ৬ হাজার গলদা চিংড়ী পোনা দিয়ে একটি পুকুরে একক গলদা চিংড়ী চাষ করি। আমার ৫০শতক পুকুরে ৫০হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে ১লাখ ১০হাজার টাকার মাছ বিক্রি করা হয়েছে। আরও ২লাখ টাকার মাছ রয়েছে। গলদা চিংড়ী কমপক্ষে ৬০০ টাকা কেজী দরে পাইকারী বিক্রি হবে। এ পুকুরের মাছ আগামী চৈত্র মাসে বিক্রি করা করতে পারবো। আমার এই গলদা চিংড়ীর কিছু পোনা আশে পাশের বিভিন্ন ক্ষেতে ছেড়েছি। যাতে করে সাধারন মানুষ ধরে খেতে পারে।

বিরামপুর মৎস্য বিভাগের উপজেলা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বিভিন্ন সময়ে চিংড়ী চাষের বিষয়ে পরামর্শ দেন। তিনি জানায়, গলদা চিংড়ী চাষ খুব লাভজনক। ৮মাসে গলদা চিংড়ীর ওজন ১০০-১২০গ্রাম হয়। পানি সাধারনত চার ফিট গভীরতা থাকতে হবে। বিক্রির উপযোগী হওয়া পর্যন্ত পুকুরের এই গলদা চিংড়ী মাছের খাবার-পোনাসহ বিভিন্ন খরচ ২০ থেকে ৩০হাজার টাকা। আয় করা যাবে কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা।

মাছ চাষ করে উপজেলায় ব্যবসায়িক ভিত্তিতে বিক্রি করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছেন। হয়ে উঠেছেন তিনি একজন সফল মৎস্যখামারী। যা এখন এলাকার অন্যদের অনুকরনীয়।

শেখ মোঃ জাকির হোসেন । দিনাজপুর প্রতিনিধি