কান্না থামছে না লাইলীর শিশু সন্তান দুটির

ঢাকার বনশ্রীতে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হওয়া গৃহকর্মী লাইলী বেগমের লাশ রোববার সকাল ৭টায় গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়ায় পৌছায়। কালিরহাট বাজার সংলগ্ন সমন্বয়পাড়া গ্রামে লাইলীর দিনমজুর বাবা নাজু ইসলামের বাড়িতে লাশ আসতেই একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

এ সময় তাদের চোখ বেয়ে ঝরছিল জল। থামছিল না কান্না। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জানাজা শেষে নীলকোমর নদীর তীরে কালিরহাট-কামাপুর সড়কের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে লাইলীর লাশ দাফন করা হয়। লাইলীর পাঁচ ও তিন বছর বয়সী অবুঝ দুই শিশু মরিয়ম ও আতিকুরের কান্না থামানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই। দাফনের পর থেকেই মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল তারা। মা হারানো দেড় বছরের আতিকুর চিনতে পারছিল না কাউকে। হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশু দুটির এখন কী হবে সে জিজ্ঞাসা দাসিয়ারছড়াবাসীর।

শুক্রবার সকালে বনশ্রীর জি-ব্লকের চার নম্বর সড়কের একটি বাসায় কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হয় লাইলীর। দুই সন্তান নিয়ে তিনি স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী জাহানারা বেগমের সঙ্গে মেরাদিয়া হিন্দুপাড়া বস্তিতে থাকতেন। লাইলীর স্বামী নজরুল হক বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার কারাগারে রয়েছেন। লাইলীর বাবা নাজু ইসলাম বলেন, অর্থ সংকটে মেয়ের লাশ ঢাকা থেকে বাড়িতে আনতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। পরে পুলিশ ও সাংবাদিকদের দেওয়া টাকায় লাশ আনার ব্যবস্থা হয়। লাশ দাফনের পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বনশ্রীতে লাইলী যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেই বাড়ির মালিকের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন সদ্য বিলুপ্ত বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাবেক সভাপতি মঈনুল হক, আলতাফ হোসেন, নুর আলম, আ. হাকিম প্রমুখ। ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবেন্দ্র নাথ ওরাঁও জানান, তিনি লাইলীর পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন। অবুঝ দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যতের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।

১০ বছর আগে ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মধ্যকাশিপুর গ্রামের দিনমজুর নজরুল হকের সঙ্গে বিয়ে হয় লাইলীর। প্রায় দেড় বছর আগে নজরুল কাজের সন্ধানে ভারতে যাওয়ার সময় বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন। তখন থেকে তিনি কোচবিহার কারাগারে রয়েছেন। এ অবস্থায় অভাবের তাড়নায় ননদ জাহানারার সঙ্গে দুই সন্তানসহ গৃহকর্মীর কাজ করার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন লাইলী।

মোঃ মনিরুজ্জামান । কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি