যমুনার উপর বাশেঁর সাঁকো, পারাপারে দূর্ভোগ হাজারো মানুষের

দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলায় ছোট যমুনা নদীর উপর নির্মিত নড়বড়ে বাঁশের তৈরি সাঁকোটি দুর্ভোগসহ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে সাধারন মানুষের চলাচলে। নড়বড়ে বাঁশের এ সাঁকোটি নদী পারাপারে চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর সীমান্তবর্তী দুই উপজেলার কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের একমাত্র ভরসা।

মানুষের আনাগোনা ওই স্থানে সেতু নির্মিত না হওয়ায় দূভোর্গ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। প্রতিদিন এ বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। ফলে ছোট যমুনা নদী দিয়ে বিভক্ত দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। স্থানীয়রা জানান, কোনোমতে তৈরি এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে পথচারীদের নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালোনা থাকায় এই এলাকায় কেউ নতুন করে আত্বীয়তা করতে চায়না। দিঘারণ গ্রামের শাহাপাড়ার মো: নুরহক, খোরশেদুল ইসলাম ডাঙ্গাপাড়ার ইউপি সদস্য ইমদাদুল হক, কেতাব উদ্দিন, মাহমুদুল হকসহ আরো অনেকে জানান, ২০ বছর ধরে আমরা নিজেদের স্বেচ্ছাশ্রমে ১৫০ ফিট এই বাঁশের সাঁকো প্রতি বছরেই নির্মান করে আসতেছি। এখানে একটি ব্রীজ নির্মিত হলে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। আশপাশের বসবাসরত মানুষের গ্রামীন অবকাঠামো উন্নতির সাথে সাথে বদলে যাবে জীবন যাত্রার মান। শক্তিশালী হবে গ্রামীন কৃষি অর্থনীতি।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, সেতুনা থাকায় যাতায়াত, উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেয়া, অন্যান্য মালামাল বহনে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে তাদের । বাঁশের এ সাঁকোর উপর দিয়ে ভারী যানবাহন, মাইক্রোবাস, অটো চার্জার চলতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা, শিক্ষা ব্যবস্থা। শুধু এই বাঁশের একটি সাঁকো অত্রাঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা। যা আমন ও বোরো মৌসুমে ধান ঘরে তুলতে দূর্ভোগের শেষ থাকেনা।

আব্দুলপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: নুর ইসলাম শাহ্ জানান, গ্রামবাসীর একটি ব্রীজের জন্য দূর্ভোগের সীমা নেই। ব্রীজটি ছোট হলেও নির্মাণ করা জরুরী। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারের সাথে যোগাযোগ করলে কোন সারা মেলেনি।

ফখরুল হাসান পলাশ । দিনাজপুর প্রতিনিধি