সফলভাবে সম্পন্ন হল মুক্তামনির বায়োপসি পরীক্ষা

বেশ কিছুদিন ধরেই বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মুক্তামণি। তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য চলছে হাজার রকম প্রচেষ্টা। সম্প্রতি মুক্তামণিকে ভিডিওতে দেখে এবং তার বিভিন্ন টেস্টের প্রতিবেদন দেখে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল এক ই-মেইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে মন্তব্য জানায় শিশু মুক্তামণির অসুখ নিরাময়যোগ্য নয় এবং সেটি অস্ত্রোপচার করার মতোও নয়। গত ২ আগস্ট ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল বোর্ডের এক সভায় ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সব প্রকারের সতর্কতা অবলম্বন করে শনিবার মুক্তার বায়োপসি (একধরনের অস্ত্রোপচার) করার সিদ্ধান্ত নেয়।

 

অবশেষে মুক্তামনির বায়োপসি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৫ আগস্ট) সকাল সোয়া ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অপারেশন থিয়েটারে তার বায়োপসি পরীক্ষা শুরু হয় এবং সকাল ১০টার দিকে শেষ হয়। অপারেশন শেষে বাইরে বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ডাঃ সামন্ত লাল সেন বলেন, আমাদের অপারেশন সফলভাবে শেষ হয়েছে। বায়োপসি করতে টিস্যু নেওয়া হয়েছে। আমরা এগুলো পরীক্ষা করতে পাঠাবো। তিনি আরও বলেন, ভাল আছে মুক্তা। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক আবুল কালাম বলেন, সফলতার সঙ্গে আমরা টিস্যু সংগ্রহ করতে পেরেছি। আমাদের কোনো অসুবিধা হয় নি। বায়োপসি রিপোর্ট আসার পর সোমবার মেডিকেল বোর্ড আবার মুক্তামনির চিকিৎসার পরবর্তি সিদ্ধান্ত নেবে। এর আগে সকাল ৮টায় মুক্তামনিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। এসময় বাইয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তার পরিবারের লোকজন। ওটিতে যাওয়ার সময় মুক্তা মনি বলে, ‘আমার জন্য দোয়া করবেন সবাই।’ মুক্তামনিকে ওটিতে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসকরা যান।

বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্লাস্টিক সার্জন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎকরা এই অপারেশনে অংশ নেন। বিশেষজ্ঞ টিমে ছিলেন বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন, বার্ন ইউনিটের বর্তমান পরিচালক আবুল কালাম আজাদসহ এই বিভাগের বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসকরা।