রৌমারীতে কাজি নিয়োগে ১০ লাখ টাকা ঘুষ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা সদর ইউনিয়নে নিকাহ রেজিষ্ট্রার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করা প্রার্থীকে প্যানেলভুক্ত না করে নিয়োগ বোর্ড তৃতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীকে টাকার বিনিময়ে প্যানেল ভুক্ত করে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত বুধবার উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার বরাবর এমন অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রথম স্থান অধিকার করা প্রার্থী এমনদাদুল হক।

জানা যায়, রৌমারী সদর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার মৃত্যু বরণ করার পর ওই পদে বিধি আনুযাযী নিয়োগ প্রক্রীয়া শুরু করেন সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত ১৩ জুলাই তারিখে উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে কাজি নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন এমদাদুল হক নামের এক প্রার্থী। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন যথাক্রমে আবু জাফর ও মনিরুল ইসলাম। বিধি মোতাবেক নিয়োগ বোর্ড পরীক্ষায় অংশ গ্রহনকারীদের মধ্য থেকে ফলাফলের ভিত্তিতে ৩ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক নিয়োগ প্যানেল তৈরী করে সেই তালিকা আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার কথা। আইন মন্ত্রণালয় প্রেরিত ঐ তালিকার মধ্য থেকে প্রথম স্থান অধিকার করা প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করবেন। কিন্তু এখানে আর্থিক দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিয়োগ বোর্ডে থাকা ব্যক্তিরা পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করা প্রার্থীর এমদাদুলের নাম প্যানেল ভুক্ত না করে তৃতীয় স্থানে থাকা প্রার্থী মনিরুল ইসলামকে প্যানেলের প্রথম স্থানে নাম বসিয়ে আইন মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করেন।

এমদাদুল হক অভিযোগ করে বলেন, ‘পরীক্ষায় আমি ফাস্ট হয়েছি। নিয়ম অনুসারে আমাকেই নিয়োগ দেয়ার কথা, কিন্তু নিয়োগ কমিটি প্রস্থাব আমি পুরন করতে না পারায় তারা ১০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে তৃতীয় স্থানে থাকা মনিরুলকে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী যাকে যে ইউনিয়নের কাজি নিয়োগ দেয়া হবে ওই প্রার্থীকে সেই ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। এখানে মনিরুল ইসলাম হলেন শৌলমারী ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও সদর ইউনিয়নে কি ভাবে নিয়োগ পান। এছাড়াও মনিরুলের পরিবারটি এলাকার চিহ্নিত জামায়াত পন্থি ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভুমিকায় সক্রীয়। সে নিজেই একজন শিবির কর্মী। আমি বিষয়টির সরেজমিন তদন্ত দাবি করছি।’

কাজী নিয়োগে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়োগ প্যানেল প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার এইচএম মিরাজ সৌরভ বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে এমদাদুল হক এটা সত্য। এরপর কি হয়েছে আমাকে জানানো হয়নি। এবিষয়ে এমপি স্যার ভালো বলতে পারবেন।’

ওই নিয়োগ কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন কাজি নিয়োগে ১০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের চাপ রয়েছে মনিরুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়ার জন্য। তাদের কথা না শুনলে ঝামেলা হতে পারে। এ কারনে তৃতীয় স্থান অর্জনকারি প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার জন্য প্যানেল ভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে ওই নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা হবে।’ এ ঘটনায় এলাকার সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি