অজানা রোগে ছটফট করছে ৩ বছরের শিশু

আক্রান্ত শিশু পল্লব নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের শ্রী সুরেশ সরদারের ছেলে। পল্লবের স্বজনরা বলছেন, আজও শিশুটির রোগ শনাক্ত করতে পারেনি চিকিৎসকরা। জন্মের পর থেকেই পল্লবের হাত-পায়ের ভাঁজে-ভাঁজে ফোসকা উঠা শুরু করে। পরবর্তীতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে তার পুরো শরীরে।

পল্লবের মা শ্রীমতি প্রার্থনা রানী জানায়, গড়মকালে শুধু ফাটা ফাটা ফোঁসকা এবং শীতকালে ফোসকার সংঙ্গে আঠালযুক্ত পানি ঝড়ে। রোগের জ্বালাযন্ত্রনায় পল্লব সব সময় কান্নাকাটি ও ছটফট করে। বন্ধ থাকে তার চোখ-মুখ।চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝড়ে। যন্ত্রনায় সে ঠিকমত খাওয়া দাওয়া ওঘুমাতে পারে না। তিনি জানান, অভাবের সংসারে রোগাক্রান্ত একমাত্র ছেলেকে নিয়ে অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছেন। অনাহারে দিন যাপন করে ছেলের চিকিৎসার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা।

তিনি আরো জানান, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পল্লবকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা পিজি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।চিকিৎসকরা ভিটামিন ও পুষ্টিযুক্তখাবারের অভাবে এ রোগের উৎপত্তি হয়েছে বলে কিছু চিকিৎসা প্রদান করেন।এতে পল্লবের কোন উন্নতি হয়নি।

অজানা রোগে ছটফট করছে ৩ বছরের শিশু

সরেজমিনে শিশু পল্লবকে দেখতে গেলে এলাকাবাসী জানায়, পল্লবের পরিবার হতদরিদ্র মানুষ হওয়ায় স্থানীয়রা যথাসাধ্য সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু সেই নহযোগিতা দিয়ে পল্লবের চিকিৎসার জন্য বেশী দূর যতে পারছেন না তার পরিবার।

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা পরিবার পরিক্লপনা অফিসার মোজাফফর হোসেন জানান, পল্লবের বিষয়টি বিভিন্ন ভাবে জানার পর তার স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। এরইমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের উপড় মহলের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। শীঘ্রই তার চিকিৎসার জন্য  ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আক্রান্ত শিশু পল্লবের বাবা সুরেশ সরদার জানান, তিনি একটি ঔষধ কোম্পানীতে গাড়ি চালকের চাকুরী করেন।তারা বড়ই অসহায়। শিশুর যন্ত্রনাআর সইতে পারছে না তারা। তাই সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়ানোর আকুতি জানিয়েছেন। ছেলেকে বাঁচাতে সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন পল্লবের বাবা-মা।

এ.কে.সাজু । নওগাঁ প্রতিনিধি