সাধারণ যাত্রীদের পরিবর্তে নিয়মিত ফ্লাইটে যাবেন হজযাত্রীরা

হজে যাতায়াতের সমস্যা নিরসনের জন্য এখন থেকে নিয়মিত (শিডিউল) ফ্লাইটেও হজযাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়া হবে। আজ বুধবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

এ ছাড়া সব হজযাত্রীকে খুদে বার্তার মাধ্যমে ভিসা না করে থাকলে ভিসা করা এবং করে থাকলে ফ্লাইট ধরার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়। সভা শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সভার সিদ্ধান্ত জানান।  মন্ত্রী এবারের সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, এবারে মূলত মোয়াল্লেম ফি বৃদ্ধি করা এবং পুনরায় যাঁরা হজে যাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দুই হাজার রিয়াল ধার্য করার কারণেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রী সভার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, নিয়মিত ফ্লাইটে অন্য যাত্রী বাদ দিয়ে হজযাত্রীদের বহন করা হবে। এটা ছাড়া পথ খোলা নেই।

অতিরিক্ত দুই হাজার রিয়ালের বিষয়ে আজ বুধবার সৌদি সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোর বৈঠক হবে। আশা করা হচ্ছে, আলোচনার মাধ্যমে এ অর্থ মওকুফ হবে। আর যদি দিতেই হয়, তাহলে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে সে অনুযায়ী একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, মোয়াল্লেম ফি নিয়েও যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল, তার সমাধান হয়ে যাচ্ছে। ৯১টি এজেন্সির ক্ষেত্রে এই সমস্যা ছিল। আশা করা যাচ্ছে, আজকের মধ্যে তারা এ বিষয়ে ‘বারকোড’ পেয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘জটিলতা হলেও আশা করছি এ সমস্যা থেকে উত্তরণ পাওয়া যাবে।’

৯১টি হজ এজেন্সির মোয়াল্লেম ফি বৃদ্ধি ও ভিসা জটিলতার কারণে পর্যাপ্ত হজযাত্রী পাচ্ছে না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সৌদি এয়ারলাইনস। আজ দুপুর পর্যন্ত পাঁচ দিনে দুটি এয়ারলাইনসের ১৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গত পাঁচ দিনে দুটি বিমান সংস্থার হজযাত্রী পরিবহন ক্ষমতা কমেছে প্রায় পাঁচ হাজার। এই সংকট সম্পর্কে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, ৯১টি হজ এজেন্সি মোয়াল্লেম সংকটে পড়ে। ফলে মোয়াল্লেমরা তাদের ফি বাড়িয়ে দেয়। ফি ছিল ৭২০ সৌদি রিয়াল। তারা এখন চাইছে ১ হাজার ৫০০ রিয়াল (১ রিয়াল‍ = ২২ টাকা)। এর ফলে যাত্রীপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৭০০ টাকা খরচ বেড়েছে। কিন্তু এই বাড়তি টাকা হজযাত্রীরা দিতে রাজি হচ্ছেন না। আবার হজ এজেন্সিও লোকসান দিতে রাজি নয়। তাই তারা একটু দেরিতে ঘর ভাড়া করে খরচ পোষানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে মোয়াল্লেম ঠিক না হলে সৌদি আরবে ঘর ভাড়া চুক্তি করা যায় না। আর ঘর ভাড়ার চুক্তি না হলে বারকোড পাবে না। ঘর ভাড়ার বারকোড ছাড়া ঢাকায় সৌদি দূতাবাস ভিসা দিতে রাজি নয়।