প্রকাশ হল মা-মেয়েকে ন্যাড়া করা কাউন্সিলর রুমকির অপকর্মের ইতিহাস

বগুড়ায় ভগ্নিপতির ধর্ষণকাণ্ড ধাপাচাপা দেয়ার জন্য নির্যাতিতা ছাত্রী ও তার মাকে ডেকে নিয়ে মারধর এবং মাথা ন্যাড়া করা বগুড়া পৌরসভার কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকির নানান অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একে একে বের হয়ে আসতে থাকে মাদক ব্যবসা থেকে পরকীয়াসহ তার নানা অপকর্মের কাহিনী। বগুড়া পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল করিম রতনসহ একাধিক কাউন্সিলরের সঙ্গে রুমকির অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

শুধু এলাকায় নয়, পৌরসভাতে ত্রাস হিসেবে পরিচিত তিনি। স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং বিত্তবান হওয়ায় তিনি কাউকে পাত্তাই দিতেন না। তার বিরুদ্ধে পৌরসভার যে কোনো কাজের বিনিময়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া, মাদক ব্যবসাসহ নানান অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরুষ কাউন্সিলরদের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে থাকতেন এই নারী কাউন্সিলর বলেও জানা গেছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তার ওপর অন্যান্য নারী কাউন্সিলররা প্রচণ্ড বিরক্ত। অনেকে সম্মান রক্ষায় রুমকির সঙ্গে কথাও বলেন না। রুমকি থাকলে তার এ ধরনের অভ্যাসের জন্য পৌরসভা থেকেও বেরিয়ে যান তারা। তার কারণে এক কাউন্সিলরকে পৌরসভায় আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে সেই কাউন্সিলর পৌরসভায় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আসেন না। তবে কাউন্সিলর এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রুমকির সঙ্গে তার ভাই-বোনের সম্পর্ক। সন্তানের অসুস্থতার কারণে পৌরসভায় যান না তিনি। রুমকির সঙ্গে তার অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ শত্রুতাবশত এসব বলেছেন বলেও জানান তিনি।

এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় রুমকি, তার মা, বাবা, বোন, ভগ্নিপতি ও তাদের সহযোগীরা গ্রেফতার হওয়ায় এলাকা এবং পৌরসভায় স্বস্তি দেখা দিয়েছে। শহরের চকসুত্রাপুর ও বাদুড়তলা এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বললে অনেকে রুমকি, ভগ্নিপতি তুফানসহ অন্যদের গ্রেফতারে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এলাকাবাসীরা বলেন, রুমকির কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। গ্রেফতার হওয়ায় আমরা খুশি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করেন, বেশ কয়েক বছর আগে রুমকি বগুড়া পৌরসভার নগর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের বাদুড়তলা কুলিপট্টি সিডিসির ক্যাশিয়ার ছিলেন। ওই সময় তিনি শুধু এলাকায় নয়, পৌরসভাতে গিয়েও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি করতেন।