পর্নোগ্রাফি ব্যবসার মূলহোতা গ্রেফতার

রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অবৈধ পর্নোগ্রাফি ব্যবসার মূলহোতা ফুয়াদ বিন সুলতানকে (৩৩) আটক করেছে র‍্যাব ১। এ সময় তার কাছ থেকে পাইরাইটেড সিডি ও পর্নোগ্রাফি বিস্তারে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, গোপন ক্যামেরা, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ইয়াবাসহ পর্ণ ভিডিও’র সিডি উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১ এর অধিনাক লেঃ কর্ণেল মো. সারওয়ার-বিন-কাশেম জানান, প্রেমের ফাঁদে ফেলে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা এবং পড়ে তা ইন্টারনেটে প্রচারের নামে ব্লাকেমেইলিং করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে উত্তরা এলাকার ৯ নাম্বার সেক্টরে ফুয়াদের পৈতৃক ভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আসামী তার নিজ বাসার দু’টি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে দেহ ব্যবসাসহ ইন্টানেটে পর্নোগ্রাফি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তার মা জানিয়েছে প্রতিমাসে দু’টি ফ্ল্যাট ভাড়া বাবদ তিনি ৪৫০০০ হাজার টাকা পেতেন ছেলের কাজ থেকে। কিন্তু কি কাজে এই ফ্ল্যাটগুলো ব্যবহার করা হতো তা তিনি জানতেন না।

গ্রেফতারকৃত ফুয়াদকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ব্যক্তি জীবনে ইংরেজিতে অনার্স অবদি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে এবং এক সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানী ও বহুজাতিক কোম্পানীতে চাকরি করত। সে ছাত্র অবস্থা থেকে এই পথে যাত্রা শুরু করলেও মূলত ২০১১ সালে কমিশনের বিনিময়ে বাসা ভাড়া করে দেয়ার ব্যবসা শুরু করে।

পর্নোগ্রাফি ভিডিও তৈরি ছাড়াও ফুয়াদ নিজের ফ্ল্যাট শারীরিক সর্ম্পকের জন্য ভাড়া দেওয়া ব্যক্তিদের গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে মেয়েদের ব্লাকেমেইলিং করে নিজে শারীরিক সর্ম্পকে লিপ্ত হত এবং টাকা আদায় করতো।
২০১৪ সালের দিকে সে ইন্টারনেট ব্যবসা শুরু করে এবং তখনই গড়ে তুলেন সোস্যাল মিডিয়াতে নিজের একাধিক সাইড। বর্তমানে তার দেশি বিদেশি মোট ৮টি ওয়েব সাইড নিজেই পরিচালনা করতেন। এই ওয়েব সাইটের মাধ্যমে সে বিভিন্নভাবে সংগৃহীত মেয়েদের আপত্তিকর ছবি, মোবাইল নাম্বার এবং দৈহিক মিলনের বিনিময়ে নির্ধারিত মূল্য উল্লেখ করে বিভিন্ন জনকে আকৃষ্ট করতো।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ভূইয়া জানিয়েছেন ফুয়াদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।