আত্মহত্যার প্ররোচনার কথা স্বীকার করল আসামী

কুমিল্লার লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের ছাত্রী স্মৃতি আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং ফেসবুকে তাঁর অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বখাটে আলম হোসেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লার ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক বিপ্লব দেবনাথের আদালতে হাজির হয়ে ১৬৪ ধরায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আলম এসব কথা বলেন। আদালতের বিচারক তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও লাকসাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এ প্রসঙ্গে এসআই বোরহান উদ্দিন বলেন, গত সোমবার সকালে আলম হোসেনকে লাকসামের উত্তর পশ্চিমগাঁও-সংলগ্ন রাজঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্মৃতিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার কথা স্বীকার করেন। গতকাল আদালতে বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের অশ্বতলা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের কলেজপড়ুয়া মেয়ে স্মৃতি আক্তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই স্মৃতির মা অহিদা বেগম বাদী হয়ে লাকসাম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। কিন্তু স্মৃতিকে দাফনের পর শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজন তাঁর লিখে যাওয়া পাঁচ পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোট খুঁজে পান। ওই সুইসাইড নোটে স্মৃতি তাঁর মৃত্যুর জন্য বখাটে আলমকে দায়ী করেন। পরে ওই সুইসাইড নোট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরই সূত্র ধরে আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর অপমৃত্যুর মামলাটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় রূপান্তর করে আলমকে ওই মামলার আসামি করা হয়। এ নিয়ে গতকাল প্রথম আলোতে ‘ফেসবুকে অশ্লীল ছবি ছড়ানোয় তরুণীর আত্মহত্যা, গ্রেপ্তার ১’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়।