শোকের মাসে বঙ্গবন্ধুর স্মরণে আওয়ামীলীগের মাসব্যাপী কর্মসূচি!

শোকের মাস আগস্ট। নির্মমতার এক কালো অধ্যায়ের মাস। ১৫ আগস্ট শুধু বঙ্গবন্ধুকেই নয়, ঘাতকের বুলেট আঘাত হেনেছিল তার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালকে।

পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্ত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিল। এসব শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে প্রতিবারের ন্যায় এবারও আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন জাতীয় শোক দিবস (১৫ আগস্ট) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। এদিকে দিবসটি পালনে আজ বিকেল ৫টায় ধানমন্ডিস্থ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর সংলগ্ন এলাকায় কৃষক লীগের উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি রয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দুপুর দেড়টায় বনানী কবরস্থানে কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে তাঁতী লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর। ৩ আগস্ট গুলশান ২ নম্বরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন। শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে ৪ আগস্ট ছাত্রলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা, ৫ আগস্ট সকাল ৮টায় ধানমন্ডি আবহানী ক্লাব প্রাঙ্গণ এবং সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, সকাল ১০টায় শিল্পকলা একাডেমিতে যুবলীগের উদ্যোগে এবং বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

৬ আগস্ট ছাত্রলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সকল বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ, ৭ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শ্রমিক লীগের উদ্যোগে বঙ্গমাতা শহীদ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে বনানী কবরস্থানের সামনে সন্ধ্যা মোমবাতি প্রজ্বালন, ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টায় আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের উদ্যোগে বনানীতে বঙ্গমাতার কবরে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, কুরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বাদ আছর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল, বিকেল ৪টায় শিল্পকলা একাডেমিতে মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা।

আগামী ৯ আগস্ট বিকেল ৩টায় জাতীয় জাদুঘর অডিটরিয়ামে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ আয়োজিত জাতির পিতার ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, ১০ আগস্ট বিকেল ৫টায় সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আলোচনা সভা, ১১ আগস্ট বিকেল ৪টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভা, ১২ আগস্ট বিকেল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যুব মহিলা লীগের আলোচনা সভা, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টায় মহানগর নাট্যমঞ্চে যুবলীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা, ১৩-১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ১৪ আগস্ট ছাত্রলীগের উদ্যোগে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে রক্তদান কর্মসূচি।

১৫ আগস্ট জাতির পিতার ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-

ওইদিন সূর্যোদয়ের ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক গার্ড অব অনার প্রদান এবং মোনাজাত। একই সময়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সকল সংগঠন এবং নগরীর প্রতিটি শাখা থেকে শোক মিছিলসহ বঙ্গবন্ধু ভবনের সম্মুখে আগমন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন, সকাল সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল, সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত, মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল। এ ছাড়া বাদ জোহর দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, সুবিধামতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা। দুপুরে অসচ্ছল, এতিম ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, বাদ আছর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এদিন কৃষক লীগের উদ্যোগে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে। ১৬ আগস্ট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

২০০৫ সালে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে ১৭ আগস্ট সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিকেল সাড়ে ৩টায় স্বাচিপের উদ্যোগে জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশ, বিকেল ৪টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তাঁতী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা, ১৮ আগস্ট সকাল ১০টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে যুবলীগের আলোচনা সভা, ১৯ আগস্ট বিকেল ৪টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মহিলা শ্রমিক লীগের শোক র‌্যালি।

২১ আগস্ট ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আলোচনা সভা, বিকেল ৪টায় যুবলীগ, বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। ২২ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা, ২৩ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগের আলোচনা সভা, প্রেসক্লাবে মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা।

২৪ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টায় বনানীতে আইভী রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, কৃষক লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা। ২৫ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক লীগের উদ্যোগে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আলোচনা সভা, ২৬ আগস্ট তাঁতী লীগের উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা, ২৭ আগস্ট বিকেল ৫টায় কেরানীগঞ্জের নুপুর কমিউনিটি সেন্টারে কৃষক লীগ ঢাকা জেলা দক্ষিণের উদ্যোগে আলোচনা সভা।

২৮ আগস্ট কৃষক লীগ ঢাকা জেলা উত্তরের উদ্যোগে সাভার পৌরসভায় আলোচনা, ৩১ আগস্ট ছাত্রলীগের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব স্মরণে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া এদিন সকাল ১০টায় শিল্পকলা একাডেমিতে যুবলীগের উদ্যোগে মাসব্যাপী কর্মসূচিসমূহের সমাপনী অনুষ্ঠান রয়েছে।