জাবির অবরোধে প্রশাস‌নিক কা‌জে অচলাবস্থা!

মহাসড়ক অবরোধ ও উপাচার্য ভবন ভাংচুরের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের করা হত্যাচেষ্টা মামলা প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার না হওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ডাকা প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচী দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ থাকায় বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার দাফতরিক কাজ।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে প্রতিবাদের নাম জাহাঙ্গীরনগর ব্যানারে গতকালের ন্যায় পূর্ব ঘোষিত অবরোধের এ কর্মসূচী শুরু করে শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এদিকে আজ সকাল ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নেতৃবৃন্দ এসে বেতন তুলবে বলে আজকের দিনের জন্য অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এসময় তারা বলেন, “আজ মাসের ১ তারিখ।

গত ৪০ দিন আগে শেষ বেতন পেয়েছিলাম, এখন বেতন তোলা আবশ্যক আমাদের জন্য। তাই অনুরোধ করছি আজকের জন্য অবরোধ প্রত্যাহার করার জন্য। ” এর জবাবে শিক্ষার্থীরা তাদের বলেন, “আপনারা যেমন কষ্টে আছেন, আমরাও আছি। দুই পক্ষের কষ্টের সমাধানই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আছে। আপনারা তাদের বলেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে। ” এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, “মামলা প্রত্যাহার বিষয়ে কোন সুরাহা হওয়ার আগ পর্যন্ত এ অবরোধ চলবে। ”

অবরোধ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি ইমরান নাদিম বলেন, “ছাত্ররা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনশনে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করা হবে বলে আশ্বাস দেয়। কিন্তু ঐ প্রতিশ্রুত সময় পার হলেও কোন উদ্যোগ আমরা দেখতে পাইনি। তাই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ কর্মসূচীতে যেতে হয়েছে আমাদের। মামলা প্রত্যাহার বিষয়ে কোন সুরাহা হওয়ার আগ পর্যন্ত এ অবরোধ চলবে। ” প্রসঙ্গত, গত ২৬ মে ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হওয়ার পর উপাচার্য ভবনে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে প্রশাসন ৫৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করে।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হন ৪২ শিক্ষার্থী। পরে এ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে ১৫ জুলাই থেকে থেকে অনশনে যান আট শিক্ষার্থী। অনশনের তৃতীয় দিন ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন সাত দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের জন্য করণীয় সব করবেন’ বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে তাদের অনশন ভাঙান। কিন্তু তারপর সাত দিন পার হলেও মামলা প্রত্যাহারের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।