ক্ষমতা দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও বেদখল করে নিত দুই ভাই

দুই ভাই শহরে চলাফেরা করেন দলবল নিয়ে। বগুড়া শহরের সব মাদকের ঘাঁটি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে। বগুড়ার সদর থানার পাশেই তালুকদার মার্কেট। স্টেশনারি দোকানে ঠাসা। মাস তিনেক আগে এই মার্কেটের একটি দোকান হঠাৎ বেদখল হয়ে যায়। দোকানের সামনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ‘যেকোনো সমস্যার জন্য যোগাযোগ করুন’, নিচে তুফান সরকারের নাম ও ফোন নম্বর। ঘটনার শিকার এই দোকানি এ নিয়ে এখন আর কিছু বলতে চান না। পরে পানির দামে তিনি দোকানটি বিক্রি করে দেন। কোনো প্রতিবাদ করতে পারেননি।

তুফানের বড় ভাই মতিন সরকার আরও খানিকটা এগিয়ে। তিনি র‍্যাবের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। একটি মামলায় তাঁর ২৭ বছরের সাজা হয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশে তা এখন স্থগিত আছে। পরিবহনে চাঁদাবাজি এবং রেলের জায়গা দখলের অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। খুব অল্প সময়ে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যান। মতিন সরকার এখন জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আর শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

বগুড়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলেন না। তাঁরা শহরে চলাফেরা করেন দলবল নিয়ে। বগুড়া শহরের সব মাদকের ঘাঁটি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে। এর সঙ্গে আছে দখল আর চাঁদাবাজি।

বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান এ বিষয়ে বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ এসব করছে। এসব অপকর্মের দায় দল নেবে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথিতে বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর কসাইপাড়া এলাকার খুদে ব্যবসায়ী মজিবর রহমান সরকারের আট ছেলের মধ্যে মেজ মতিন সরকার। আর ছোট তুফান সরকার। বাবা একসময় মাংসবিক্রেতা ছিলেন। সন্তানদের কেউই স্কুলের গণ্ডি পেরোননি। তবে সবাই এখন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত।