রোনালদো বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ, সর্বচ্চ শাস্তি ৫ বছরের জেল

সম্প্রতি স্পেনে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদের এই খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে। কিছুদিন আগেই কর ফাঁকির অভিযোগে ২১ মাসের হাজতবাসের রায় হয় মেসির বিরুদ্ধে। নিজের দেশে এ নিয়ে চাপ আছে নেইমারের উপর। এবার একই অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

অবকাশ শেষে স্পেনে ফিরেই আদালতে ছুঁটতে হয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। সোমবার ১ কোটি ৪৭ লাখ ইউরো কর ফাঁকির মামলায় স্প্যানিশ আইন কৌঁসুলিদের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই তারকা ফুটবলার।  স্পেনের কর কর্তৃপক্ষ দাবি তুলেছে, ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে নিজের ইমেজ স্বত্বের আয় গোপন করেছেন রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড নাকি মূল আয় থেকে ৮ থেকে ১৫ মিলিয়ন ইউরো কম দেখিয়েছেন এ সময়ে। স্পেনের আইন অনুযায়ী ৬ লাখ ইউরোর সীমা অতিক্রম করায় প্রতিবছরের জন্য রোনালদোর বিপক্ষে মামলা করার এখতিয়ার আছে। প্রতি বছরের জন্য দু বছরের জেলের শাস্তি হতে পারে তাঁর। তবে তিন অপরাধ মিলিয়ে পাঁচ বছরের শাস্তিও হতে পারে। স্পেনের অর্থ মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে তাদের সমর্থন জানিয়ে দিয়েছে। স্পেনের আইন অনুযায়ী, দুই বছরের কম সাজা হলে, এবং সহিংস অপরাধে না হলে প্রথমবারের মত জেলে যেতে হয় না। মেসি সব পাওনা কর পরিশোধও করেছিলেন।

এদিকে স্পেনের কর বিভাগের কর্মচারী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত সংস্থা গেস্থা জানিয়েছে, পুরোদমে তদন্ত হবে। সরকারি আইজনজীবীকে সমস্ত তথ্য দিয়ে সাহায্য করা হবে। আর রোনালদো দোষী সাব্যস্ত হলে কর ফাঁকি দেওয়ার বিভিন্ন ধারায় হাজতবাসও করতে হতে পারে তাকে। কর ফাঁকির বিতর্কে নিজের ক্লাব রিয়ালকে পাশেই পাচ্ছেন রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদের দেওয়া এক বিবৃতিতে নিয়মিত কর পরিশোধের ক্ষেত্রে রোনালদোকে যেকোনো করদাতার জন্যই উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। রোনালদোর এজেন্ট হোর্হে মেন্ডেজ বলেছেন, রোনালদোর বিপক্ষে আনা কর ফাঁকির যাবতীয় অভিযোগই মিথ্যা। রোনালদো প্রতি বছর কর দিয়ে গেছেন নিয়মিতই।

তবে রোনালদো এ ব্যাপারে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ২০০৯ সালের আগে যারা স্পেনে এসেছেন, সেসব খেলোয়াড় তথাকথিত ‘বেকহাম-আইন’ এর সুযোগ নিয়ে থাকেন। করের হার কমিয়ে বাইরের তারকা খেলোয়াড় আকর্ষণ করার একটা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল ২০০৩ সালের পর। সেটিরই সুবিধা নিচ্ছিলেন রোনালদো। তাই এ ক্ষেত্রে রিয়াল ফরোয়ার্ডকে সরাসরি দায় দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এমনকি তাঁকে এখনো সরাসরি কোনো আইনি নোটিশও পাঠানো হয়নি। তাঁর আর্থিক দেখভালকারী প্রতিষ্ঠানের দায়ই দেখছে সবাই।