ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও শিক্ষকের মারামারি

রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মাহমুদ শাহুল আফজাল এবং সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মাহি উদ্দিন ও জাভেদ রাসেলের বিরুদ্ধে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ‘ল’ বিভাগের শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহম্মেদকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও শিক্ষকের মারামারি

রোববার বিকালের এই ঘটনার পর তা নিয়ে মহাখালীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছে। বিষয়টি পুলিশেও গড়িয়েছে। শিক্ষক ফারহান উদ্দিনকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। তারা বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এরপর অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা রাতে ক্যাম্পাসে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা জড়িতদের ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাত ১১টা পর্যন্ত রেজিস্ট্রার অবরুদ্ধ আছেন। ঘটনার পর পরই ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ইয়াসির আরাফাত বলেন, ফারহান উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারসহ কয়েক কর্মকর্তা মারধর করেছেন।

এসআই ইমতিয়াজুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফারহান উদ্দিন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ছিলেন। চুক্তি শেষ হওয়ায় তার আইডি কার্ড ফেরত আনতে যান রেজিস্ট্রার অফিসে। এ নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ফারহান উদ্দিন আহত হন ও তার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর পর বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ফারহান উদ্দিন বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ফেইসবুকসহ ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের পক্ষে সরব হয়েছেন। ফারহান চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ছিলেনি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরপরই এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযোগের মুখে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহুল আফজালের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোন নম্বরগুলোতে কল করেও কারও সাড়া মেলেনি। ইয়াসির আরাফাত বলেন, তারা ঘটনাটি বনানী থানায় জানিয়েছেন।

বনানী থানার পরিদর্শক আবদুল মতিন বলেন, ব্র্যাকের শিক্ষকদের মধ্যে সমস্যার ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিস্তারিত ওসি স্যার (বি এম ফরমান আলী) জানেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। বনানী থানার ওসি বি এম ফরমান আলীর সঙ্গে রাতে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।