প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চলমান থাকবেঃ প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার রফিউজ্জামান সিদ্দিকী গতকাল রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমস্যা থাকতেই পারে। কিন্তু বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চলমান থাকবে। যেকোনো সমস্যাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। ’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির কথা তুলে ধরেন। এর আগে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে সমুদ্রসীমার বিরোধও নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘একইভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। আমরা শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে ভারত থেকে ৬২ হাজার শরণার্থী ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্রোহের অবসান ঘটিয়েছি। ’

দারিদ্র্যকে এই অঞ্চলের প্রধান শত্রু উল্লেখ করে শেখ হাসিনা এই অঞ্চলের দেশগুলো থেকে দারিদ্র্যের মূলোৎপাটনে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি তাঁর সরকারের নেতৃত্বে গত সাড়ে আট বছরে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নেরও একটি খণ্ডচিত্র তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পরই কতগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যাই। যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষা এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। যে কারণে জনগণ এখন এগুলোর সুফল পাচ্ছে। ’ তিনি বলেন, ‘এসবের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কার্যকর নীতিমালা বিশেষ করে অর্থনৈতিক নীতিমালা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে। ’

শেখ হাসিনা এ সময় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে পরিচালিত গ্রেনেড হামলা এবং জঙ্গিদের সাহায্যে ৬৩টি জেলার ৫০০ স্থানে পরিচালিত বোমা হামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি সন্ত্রাসবাদের হুমকির প্রসঙ্গে বলেন, আসলে এতে করে অস্ত্র ব্যবসায়ীরাই লাভবান হচ্ছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ধারায় পুরোপুরি পরিবর্তিত একটি দেশ। তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হয়েছেন তাতে পাকিস্তানের জনগণও আনন্দিত। ’

গত বছর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, ‘ওই হামলার পর আর এ ধরনের কোনো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেনি। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদকে কঠোর হস্তে দমনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ’ হাইকমিশনার রফিউজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে অনেক বিষয়ে মিল রয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নেই তিনি কাজ করে যেতে চান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিকসচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহম্মদ জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন।