কাজ শেষ না হতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে ধ্বস

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কাজ শেষ না হতেই পাউবোর বাঁধে ধস সৃষ্টি হয়েছে। গত ২ সপ্তাহে ৪ জায়গায় বাঁধ ধসে যাওয়াকে ঘিরে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বাঁধ সংলগ্ন এলাকাবাসী।

জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের কড়াল গ্রাস থেকে চিলমারীকে রক্ষার জন্য নির্মিত বাঁধের কাজ শেষ না হতেই গত ১৩ জুলাই কাঁচকোল উত্তর ওয়ারী এলাকায় মাসুদ এন্ড কোং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ১৮০৫৬ নম্বর সাইডের পাউবো বাঁধে ২৫ মিটার জায়গা নদীতে ধসে যায়। এছাড়া, ১৯ জুলাই কাচকোল দঃ ওয়ারী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজরুল ইসলামের বাড়ী সংলগ্ন ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের সুশেন চন্দ্রের (রুপান্তর জেভি) ঠিকাদারের ড৪-২/২ নম্বর সাইডের ২৫ মিটার এলাকা, ২৫জুলাই কাঁচকোল সুইচগেটের উত্তরে কয়েক মিটার ও ২৮ জুলাই সুইচ গেটের ১শ গজ উত্তরে খন্দকার শাহিন আহমেদের ১৮০৪৯ নম্বর সাইডের প্রায় ৩০ মিটার এলাকা নদীতে ধসে যায়। এতে উপজেলা রক্ষার গোটা বাঁধটি হুমকির মুখে পড়ায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। একের পর এক জায়গায় ধসের সৃষ্টি হওয়ায় নিম্নমানের কাজকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী।

রোববার বিকেলে ধসে যাওয়া কাঁচকোল সুইচ গেট এলাকার মোঃ এন বাবু, সুভাস চন্দ্র, নুর বক্ত মিয়া, মোঃ নুরু মিয়া, এরশাদুল, মঞ্জু মিয়াসহ উপস্থিত অনেকে অভিযোগের সহিত সাংবাদিকদের বলেন, চিলমারী রক্ষার বাঁধ নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সিসি ব্লক তৈরি এবং জিও টেক্সটাইল ফিল্টার ও ব্লক বসানোয় মানা হয়নি সরকারি নিয়মাবলি। অভিযোগকারীরা আরো বলেন, সঠিক ব্লক ডাম্পিং এবং গাইড ওয়ালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্লক না থাকায় কাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন জায়গায় ধসের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্র ছায়ায় থেকে ওই সাইডের ঠিকাদারের লোকজন কাজে অনিয়ম দুর্নীতি করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ৪জায়গায় ব্লক ও পিচিং ধসে যাওয়ার ঘটনায় চরমভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বার বার নদী ভাঙ্গনের শিকার হওয়া নদীতীরবর্তী মানুষ। স্থানীয় রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ওই সাইডের কাজে ডাম্পিং এবং পিচিং কোনটিই ঠিক মতো হয়নি। যার ফলে কাজ শেষ না হতেই বিভিন্ন জায়গায় ধস দেখা দিয়েছে। এজন্য তিনি ওই এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজন কে দায়ী করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড উলিপুর-চিলমারীর দায়িত্বে থাকা এসডিই মোখলেছুর রহমান কাজে অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, এ কাজ গুলির ন্যাচারই এরকম, দু’এক টা মৌসুম সমস্যা হয় পরে ঠিক হয়ে যায়। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল বা ধসের ঘটনাটি কোনো ব্যাপার না। ১ বছরের মধ্যে ধস ও ফাটল হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার তা ঠিক করে দিবে। পরবর্তী সময়ে সমস্যা হলে আমরা সারা বছর মেরামত করে যাব। এতে তীরবর্তী মানুষের আতঙ্কের কিছু নাই।

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি