দেশের সংস্কৃতি সুরক্ষায় উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ

ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির অমূল্য ভাণ্ডার দেশের উত্তরাঞ্চল। নানা লোকজ সম্পদ এ অঞ্চলকে এনে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এ অঞ্চল থেকে অনেক লোকজ সম্পদ হারিয়ে গেছে। আবার অনেকে কিছু প্রায় হারাতে বসেছে।

উত্তরাঞ্চলের এ লোকজ সম্ভারকে পুনরদ্ধার ও সংরক্ষণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্ধবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প প্রস্তাবের আওতায় ‘বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের লোক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংগ্রহ, গবেষণা সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার’  শীর্ষক এ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সরকারের সংস্কৃতি  মন্ত্রণালয় থেকে।  আর এটি বাস্তবায়ন করবে  মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী।  এরই মধ্যে এ  প্রকল্পের ডিপিপি (ডিটেইল  প্রজেক্ট প্রপোজাল)  পরিকল্পনা  কমিশনে পাঠান হয়েছে।  অর্থ বিভাগ এরই মধ্যে  জনবলও নির্ধারণ করেছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ৯৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আর প্রকল্প শেষ হওয়ার সময়কাল ধরা হয়েছে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি।

এ প্রকল্পের ব্যপারে শিল্পকলা একাডেমির মহা পরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন,  আমাদের দেশের সংস্কৃতি সুরক্ষায় অঞ্চলভিত্তিক কাজ শুরু করেছি।  আমাদের সংস্কৃতির উর্বরভূমি দেশের উত্তরাঞ্চল। সেখানকার লোকজ সংস্কৃতির পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রয়োজন।  সেটা এমনভাবে প্রয়োজন যেন  পরবর্তী প্রজন্ম  উত্তরাঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে খুব  সহজেই জানতে পারে।  লোক ঐতিহ্য  সংগ্রহের  পাশাপাশি  এ  প্রকল্পের আওতায়  নানা  গবেষণা কর্ম চালান হবে।  তথ্যসূত্রে জানা যায়  উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলা রয়েছে এ প্রকল্পের আওতায়।  জেলাগুলো হল, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁও।  এসব জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়নে গিয়ে মাঠপর্যায়ে এ কাজ করে লোকজ নানা বিষয় পুনরুদ্ধার করা হবে। যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করা হবে সেগুলোর মধ্যে স্পর্শ করা যায় এমন ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে লোকশিল্প, লোকক্রীড়া, কাঠের কাজ, মাটির কাজ, বাঁশ-বেতের কাজ, শোলার কাজ, বয়নশিল্প, সোনা রুপার কাজ ও শঙ্খ। আর স্পর্শাতীত ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে লোকাচার, লোকসাহিত্য, লোকনাট্য, লোকনৃত্য, লোকসঙ্গীত, লোকচিকিৎসা, খাদ্য, ভাষা, জাদু ও সার্কাস। এ প্রকল্পের আরেকটি বিশেষ দিক হচ্ছে ,  এর  মধ্য দিয়ে লোকজশিল্পীদের অনেকেই কাজের সুযোগ পাবেন। সংগ্রহ করা হবে লোকজ নানা সামগ্রী ও উত্তরাঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া নানা সঙ্গীতযন্ত্র।