অবৈধ পথে ইতালি যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়েছে

আজ ৩০ জুলাই আন্তর্জাতিক মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস। এ উপলক্ষে গতকাল ঢাকায় ব্র্যাক আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও মানব পাচারের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। পাচারের সঙ্গে জড়িত ‘গডফাদারদের’ তালিকা করে তাদের ধরতে হবে।ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর, অর্থাৎ ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৩১। আর এ বছর প্রথম পাঁচ মাসেই গেছে ৭ হাজার ১০৬ জন, যা ইতালিতে মোট অবৈধ প্রবেশকারীদের ১১ শতাংশ। বাংলাদেশিদের এভাবে দেশত্যাগের জন্য আর্থিক সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশি অভিবাসীদের ওপর জাতিসংঘের অভিবাসী সংস্থা পরিচালিত একটি সমীক্ষা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরদাতাদের ৯৮ শতাংশ বলেছে, ইতালির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তারা এক বছরের বেশি সময় লিবিয়ায় ছিল। তাদের অধিকাংশই অবিবাহিত পুরুষ।

কেবল ইতালিই নয়, এ বছর সাগরপথে অবৈধভাবে যত লোক ইউরোপে প্রবেশ করেছে, বাংলাদেশ সেই তালিকার অন্যতম। এর আগে ২০১৫ সালে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের সংখলা প্রদেশে মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তীর জঙ্গলে বেশ কিছু গণকবর আবিষ্কার হয়। তখন সাগরপথে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ২০১৪-১৫ সালে এই পথে প্রায় ৯৩ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় গেছে। অনেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, মারাও গেছে। তারা কাজের সন্ধানে বা ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে দেশ ছেড়েছিল। বাংলদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৫-১৬ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ।

থাইল্যান্ড সরকার পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর বঙ্গোপসাগর দিয়ে মানব পাচার আপাতত বন্ধ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূমধ্যসাগর রুটে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। যদিও এমন বিপজ্জনক পথে বাংলাদেশিদের ইউরোপে পাচার শুরু হয় অনেক আগে। ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাস বলছে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ৯৩ হাজার ৪৩৫ জন বাংলাদেশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে।

সোডা মানব পাচারকারীদের অর্থ পরিশোধের আরেকটি বিকল্পের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর কথায়, মানব পাচারকারীরা ইতালিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এই ব্যবসায়ীরা ফুটপাতে সস্তা খেলনা বা গোলাপ বিক্রির মতো কাজের সংস্থান করেন। এরপর এজেন্টরা প্রতিশ্রুত টাকা উশুল করেন।

ইতালি সরকারের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আইওএম রোমের অদূরে লাপান্তো এলাকায় ভূমধ্যসাগর দিয়ে প্রবেশকারী উদ্বাস্তুদের বিষয়ে নজরদারি করতে একটি সমন্বয় দপ্তর খুলেছে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের ইতালি থেকে ফিরিয়ে নিতে ঢাকা কোনো পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশিদের জন্য ইইউ ভিসা সীমিত করার হুমকি দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ-ক্লদ জাঙ্কার। ইতালির প্রধানমন্ত্রী পাবলো জেন্তিলনিকে গত মঙ্গলবার দেওয়া এক চিঠিতে জাঙ্কার ওই হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করেন বলে ভয়েস অব আমেরিকা বুধবার জানিয়েছে। যোগাযোগ করা হলে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি ‘সংবেদনশীল’ বিবেচনায় কোনো বক্তব্য দিতে চায়নি।