পাটের মূল্যহ্রাসে হতাশ সিরাজদিখানের কৃষকরা

সিরাজদিখানে সরকারের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় উপজেলার কৃষকেরা পাটের আবাদ বাড়িয়ে দিয়েছেন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই পাটের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ এখানকার কৃষকরা। কৃষকের উৎপাদন খরচই উঠে আসছে না। সরকারিভাবে পাট ক্রয়ের জন্য দাবি করেছেন, সিরাজদিখানে কৃষকেরা।

গত বছরের চেয়ে এ বছর সিরাজদিখানে ২ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উপজেলার বয়রাগাদী টেংগুরিয়াপাড়া, ইছাপুরা, নাইসিং, মধ্যপাড়া, নিমতলা, কমলাপুর, রাজদিয়া, রায়েরবাগ, শিয়ালদি, ইমামগঞ্জ, গয়াতলা, আবিড়পাড়া, চোরমর্দ্দন, জৈনসার এলাকার কৃষকরা পাটের পরিচর্যায় বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন । পুরুষরা পাট উঠিয়ে দিচ্ছেন, মহিলারা পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার পুরুষরা ধুয়ে রোদে শুকিয়ে বাজার জাত করছেন। গত কয়েকদিন আগে দাম ভালই ছিল এখন  কমে যাওয়ায় কৃষকরা দিশে হারা হয়ে উঠছেন। এ ব্যাপারে কৃষকরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

অনেক কৃষক জানান, সরকার প্লাস্টিকের বস্তা উঠিয়ে দেওয়ায় ভেবে ছিলাম দাম ভাল পাব কিন্তু এখন উল্টোটা, দাম কমে গেছে। শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বেশি ঐ তুলনায় বাজারে দাম পাই না। এত কষ্ট করে পাট উৎপাদন করা হয়। এ কাজে আগের মত শ্রমিক পাওয়া যায় না। তার মধ্যে দাম কমেছে তাহলে আমরা কিভাবে পাট চাষাবাদ করব। সরকার যদি আমাদের দিকে খেয়ালরাখে তাহলে উৎপাদন আগামীতে আরো বারাব।ফালগুন মাসে সিরাজদিখানে প্রধান অর্থকরী ফসল আলু জমি থেকে উত্তোলনের পর চৈত্র মাসে একই জমিতে পাটের বীজ রোপণ করেন। এরপর পাটের জমিতে সার ছিটিয়ে পরিচর্যা করা হয়। গাছ বেড়ে উঠার পর আষাঢ় মাসে পাট কেটে তা পানিতে ২১ দিন জাগ দিয়ে রাখা হয়। পাট পচার পর পাটখড়ি থেকে পাটের আশ সরানো হয়। ৬০০ টাকা কামলা খরচসহ মণপ্রতি তাদের এবার খরচ পড়েছে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা। কিন্তু পাট মৌসুমের শুরুতেই মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায়।

গত বছর মৌসুমের শুরুতে পাটের বাজার মূল্য মণপ্রতি ছিল ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা। পরে তা নেমে বিক্রি হয়েছিল ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকায়।এদিকে, উপজেলার গ্রামীণ জনপদের কোথাও পাট কেটে জাগ দেয়া হচ্ছে, কোথাও পাটখড়ি থেকে আঁশ ছড়ায়ে শুকানোর কাজ চলছে। আবার কেউ কেউ বিক্রি করছেন স্থানীয় বাজারে নিয়ে। পাইকাররা গ্রামে গ্রামে গিয়েও পাট ক্রয় করছেন।কৃষকেরা জানিয়েছেন, মৌসুমের শুরুতেই পাটের বাজার মূল্য নেই। আর কয়দিন পর বাজার আরও পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিশ্রমই বৃথা যাচ্ছে। একমণ পাটের খরচ পড়েছে ১০০০ টাকার উপরে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় জানান, এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। সিরাজদিখান উপজেলায় ২ হাজার ২৭০ হেক্টর, পাটের আবাদ হয়েছে, ভালো মানের পাট মণপ্রতি ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

আব্দুলাহ আল মাসুদ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি