রুমায় পাহাড় ধ্বসে নিখোঁজ কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার

বান্দরবানের রুমায় পাহাড় ধ্বসে নিখোঁজ কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহষ্পতিবার বিকেলে রোয়াংছড়ি উপজেলার বেতছড়া বাজার এলাকায় সাঙ্গু নদী থেকে লাশটিকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বেতছড়া বাজার এলাকায় সাঙ্গু নদীর তীরে মাটি চাপা পড়া অবস্থায় এক অজ্ঞাত লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং লাশ সনাক্তের জন্য নিখোঁজদের স্বজনদের খবর দেয়।

এদিকে সাঙ্গু নদীতে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে বান্দরবান আসে রুমায় পাহাড় ধ্বসে নিখোঁজ রুমা উপজেলার কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দীর ছেলে তুর্য্য নন্দী ও শ্যালক দিগন্ত নন্দী। পুলিশ লাশ নিয়ে ক্যাচিংঘাটায় পৌছঁলে সাথে সাথে লাশের পরনের প্যান্ট দেখে ছেলে তুর্য্য নন্দী বলেন, “এটি আমার বাবার প্যান্ট, এটা আমার বাবা” বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তবে লাশ বিকৃত হওয়ায় তা ভালো করে বুঝা যাচ্ছিল না।

এদিকে গত ২৫ জুলাই পাহাড় ধ্বসে নিখোঁজ সাস্থ্য কর্মী মুন্নী বড়ুয়ার লাশ বাশঁখালীর সাঙ্গু নদী থেকে উদ্ধার করে বাশঁখালী থানা পুলিশ। এ নিয়ে বান্দরবানের রুমায় পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো দুইজন নিখোঁজ রয়েছে। পোস্ট মাস্টার জবিউল ইসলাম ও স্কুল ছাত্রী চিং মে সিং।

রোয়াংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বেতছড়া বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা লাশটি পাহাড় ধ্বসে নিখোঁজ গৌতম নন্দীর তার পরিবারের লোকজন লাশটি চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে লাশটি বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার ২৩ জুলাই রুমার দলিয়ান পাড়ায় পাহাড় ধ্বসে গৌতম নন্দীসহ চারজন নিখোঁজ হয়। এদের মধ্যে দুজনের লাশ সাঙ্গু নদীতে পাওয়া যায়। বাকী দুজন পোস্ট মাস্টার জবিউল ইসলাম ও স্কুল ছাত্রী চিং মে সিং এখনো নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যজাহত রেখেছে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস পুলিশ ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা।

সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান প্রতিনিধি