জলাবদ্ধতায় খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি

কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও বছরের সর্বোচ্চ জোয়ারে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গুদামগুলোতে ঢুকে পড়েছে পানি। এতে নষ্ট হচ্ছে পিয়াজ-রসুনসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য। ফলে দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ-চাক্তাই ও আছদগঞ্জে ব্যবসায়ী এবং গুদাম মালিকরা পানিতে পাঁচশ কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন। বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে পণ্যের মূল্য নতুন করে বাড়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।

জানা যায়, ২০১৭ সালে ৭০৫টি জোয়ার হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ জোয়ার হয় গত মঙ্গলবার। এই জোয়ারের কারণে পানি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮ দশমিক ৫০ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। যা ছিল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৭ থেকে ৮ ফুট বেশি। এবারের জোয়ার ও বর্ষণে অন্যান্য বছরের মতো যথারীতি আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, সিডিএ আবাসিক এলাকা, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ-চাক্তাই ও আছদগঞ্জে কয়েকশ গুদাম ও আড়তে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যাওয়া চাল, ডাল, তেল, চিনি ও পিয়াজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। নষ্ট হয়ে যাওয়া পচনশীল পণ্যে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। বিশেষ করে পচে যাওয়া পিয়াজ-রসুনের উৎকট গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়েছে।

তিন দিন ধরেই ২৪ ঘণ্টায় দুই দফা অর্থাৎ সকালে ও রাতে এই বাণিজ্য কেন্দ্রে জোয়ারের পানি ঢোকে। এই বাণিজ্য কেন্দ্রের শতাধিক আড়ত এবং অন্তত ৯০ শতাংশ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢোকে। জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নতুন চাক্তাই, চরচাক্তাই, পুরনো চাক্তাই, মকবুল সওদাগর রোড ও আছদগঞ্জের প্রায় প্রতিটি দোকান। এ ছাড়া খাতুনগঞ্জ সড়কের পাশে হামিদুল্লাহ মার্কেটে পানি ছিল গলাসমান। পাশাপাশি চান্দমিয়া গলি, ইলিয়াছ মার্কেট, বাদশা মার্কেট, সোনা মিয়া মার্কেট, নবী মার্কেট, মাল্লা মার্কেট, চাক্তাই মসজিদ গলি, ড্রামপট্টি, চালপট্টি ও এজাজ মার্কেটসহ বেশির ভাগ মার্কেটেই পানি ঢুকে পড়ে।

চাক্তাই এলাকার চালপট্টিতে কয়েকশ চালের দোকানে পানি উঠে প্রচুর চাল নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চাল বিক্রেতারা। অভিযোগ আছে, ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন থাকলেও সেই সংগঠন ব্যবসায়ীদের কল্যাণে বা খাতুনগঞ্জের জলাবদ্ধতা নিরসনে আট বছরে কিছুই করেনি। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতা নিজেদের আখের গোছালেও ব্যবসায়ীদের কল্যাণে কিছুই করেননি বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এই দুর্ভোগে তাদের সেই অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলেমান বাদশা বলেন, তাদের আতঙ্কের নাম এখন জলাবদ্ধতা। গত বছরও এই বাজারের কয়েকশ দোকানে পানি ঢুকে শতকোটি টাকার পণ্য নষ্ট হয়। এবারের লাগাতার জোয়ারে অন্তত পাঁচশ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের প্রায় প্রতিটি সড়কে ৪-৫ ফুট পানি জমে। ২৬ বছরের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি পানি ঢুকেছে বলে জানান তিনি।