সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বন্ধ হল গৃহকর্মীর লাশের তদন্ত

রাজধানীর মিরপুরের পুলিশ দম্পতি এএসআই নজরুল ইসলাম ও এসআই হোসনে আরা বিউটির বাসায় রহস্যজনক ভাবে তাদের গৃহকর্মী মো. রাসেলের (১৭) মৃত্যু হয়েছে।নিহত রাসেলের পরিবার এটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে থানায় মামলা করতে গেলে এ সময় গৃহকর্তা নজরুলের দাবি ছিল, রাসেল আত্মহত্যা করেছে। পরে পুলিশ রাসেলের পরিবারকে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে। কিন্তু সেই প্রতিবেদন আসার আগেই একটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগকে মীমাংসা করে দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকেলে মিরপুর থানায় সেই মীমাংসা বৈঠক হয়। এতে অভিযুক্ত গৃহকর্তা এএসআই নজরুল রাসেলের পরিবারকে নগদ দুই লাখ টাকা দিয়ে অভিযোগ থেকে রেহাই পান। এক বছরের মধ্যে আরও দেড় লাখ টাকা দেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ পুলিশ আপসরফা করতে পারে না। এটা করতে হলে আদালতে করতে হবে। মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, এটা তো আপস হওয়ার বিষয় নয়। দুই পক্ষ মীমাংসা করলেও অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বাদী হয়ে মামলা করতে হবে। সেই জায়গায় পুলিশের উদ্যোগী হয়ে মীমাংসা করা ঠিক হয়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এটিকে আত্মহত্যাও বলা যাবে না।

এএসআই নজরুলের মিরপুরের বড়বাগ এলাকার বাসা থেকে গত রোববার রাসেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অচেতন অবস্থায় ওই কিশোরকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় গৃহকর্তা এএসআই নজরুল জানিয়েছিলেন, তার খালি বাসায় রাসেল ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ওই দিন রাতে মিরপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

তবে লাশ উদ্ধারের পর রাসেলের চাচা শফিকুল ইসলাম তার ভাতিজাকে হত্যার অভিযোগ এনেছিলেন। দাবি করেছিলেন, তার ভাতিজাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে। তিনি হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা নিচ্ছে না। এদিকে বুধবার পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ও তার স্ত্রী তাদের হাতে-পায়ে ধরেছেন। মিরপুর থানার পুলিশ কর্মকর্তারাও বলেছেন, রাসেল তো মারাই গেছে। এখন অন্য একটি পরিবার (পুলিশ দম্পতি পরিবার) ধ্বংস করে লাভ কি? তার চেয়ে নিজেরা মীমাংসা করে ফেলেন।

শফিকুল বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে মিরপুর থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) কক্ষে তারা আলোচনায় বসেন। সেখানে সবকিছু মীমাংসা হয়। এএসআই নজরুল তাদের নগদ দুই লাখ টাকা দেন। দেড় লাখ টাকা এক বছরের মধ্যে দেওয়ার কথা বলেন। এরপর তারা পুলিশের কথায় একটি কাগজে স্বাক্ষর দিয়ে রাতে মর্গ থেকে লাশ বুঝে নেন। বুধবার সকালে গ্রামের বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুরে রাসেলের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। অভিযুক্ত এএসআই নজরুল বলেন, রাসেল তার এলাকার ছেলে। সবাই তাদের পরিচিত, আত্মীয়। এ জন্য তারা কোনো অভিযোগ করবে না বলে লিখিত দিয়েছে। তিনি কোনো টাকা দেননি।

তবে থানার উপ-পরিদর্শক অজিত রায় বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে দুই পক্ষই থানায় এসেছিল। গৃহকর্মী রাসেলের পরিবার থানায় একটি লিখিত দিয়ে বলেছে, তারা তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ভবিষ্যতেও রাসেলের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো অভিযোগ দেবে না তারা।