প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসাবে ডিসি সম্মেলনে বক্তব্য দিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসাবে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রাধানমন্ত্রীর সামনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া। ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের জন্ম ১৮৩৩ সাল থেকে আজ অব্দি ১৫৫ জন জেলা প্রশাসকের মধ্যে তিনিই প্রথম নারী।

এছাড়া ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলার জনগণের পক্ষ হতে দাবী করে তিনি বলেন, “ফরিদপুর জেলার জেলা প্রশাসক হিসাবে আপনার সরকারের নিকট ফরিদপুরের জনগণের ২টি প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে চাই।

১। জাতির পিতার স্মৃতিধন্য ফরদিপুরকে দেশেরে ৯ম বিভাগ হিসাবে ঘোষণা এবং
২। উচ্চ শিক্ষার প্রসারে দক্ষিণ বঙ্গ ফরদিপুরে একটি র্পূণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকরণ”।

তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রসংশা করে তাঁর উদ্দেশ্যে বলেন, “ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নিজস্ব র্অথায়নে পদ্মা সেতুর মত বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ণের উদ্যোগ নিয়ে আপনি ধুলিস্যাৎ করছেনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক ষড়যন্ত্র। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। এটা এখন আনন্দময় এক বাস্তবতা। পদ্মা সেতুকে ঘিরে ইতিমধ্যে মানুষের মধ্যে আশা জাগানিয়া ও উদ্দীপনা মূলক চেতনার সৃষ্টি হয়েছে। এ চেতনাকে কাজে লাগাতে, আপনার সকল দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাই আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। মাঠ র্পযায়ে আপনার সদা অনুগত আমরা জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারিবৃন্দের ইদানীং কালের প্রত্যয়ী উচ্চারণ “সুশাসনে গড়ি, সোনার বাংলা”।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া। পরে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তাঁর প্রধান অতিথির ভাষণের মাধ্যমে এ সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনদিনের এ সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা ১৮টি কার্য অধিবেশনে ডিসিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।

তিন দিনের এই জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২২টি অধিবেশনে সাজানো হয়েছে। এবারের সম্মেলনে ৩৪৯টি প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। এর মধ্যে কার্য-অধিবেশন হবে ১৮টি। এই ১৮টি কার্য-অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ মোট অংশ নেবে ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি