নগরীতে গণপরিবহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই, দুর্ভোগে যাত্রীরা

সকাল ১০টা। অফিসে পৌঁছার সময় শেষ হয়ে গেছে আরও একঘণ্টা আগে। তখনও সড়কের পাশের একটি দোকানের নিচে দাঁড়িয়ে রিকশা খুঁজছেন তিনি। বাস না পেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর একটি সিএনজিতে ওঠেন খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা রহিমা আফরোজ। কিন্তু তাকে ভাড়া গুনতে হয়েছে দিগুন।

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীজুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে রহিমা আফরোজকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। শুধু মোরশেদা বেগমই নয়, বুধবার তার মতো এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে এ নগরীর হাজারো মানুষকে।

রহিমা আফরোজের অভিযোগ, নগরীতে গণপরিবহনের সুষ্ঠু কোনও ব্যবস্থাপনা না থাকায়, বছরের পর বছরজুড়ে নগরবাসীকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। এ নিয়ে বিআরটিএসি ও সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কোনও উদ্যোগ নেই। দুপুরের দিকে নগরীর বনশ্রী, খিলগাঁও, ফকিরাপুল, মতিঝিল, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকায় একদিকে যেমন যানবাহন সংকট, অন্যদিকে যানজটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে ঘরের বাইরে আসা মানুষদের।

বর্ষার শুরু থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঢিলে তালে চলছে উন্নয়ন কাজের খোঁড়াখুড়ি। বৃষ্টি হলেই শুরু হয় জলাবদ্ধতা। এ কারণে কোথাও দেখা দেয় গণপরিবহন সংকট, আবার কোথাও ঘন্টার পর ঘণ্টা যানজটে স্থবির হয়ে যায় নগরী। বুধবার সকাল থেকে পরিবহন সংকট আর যানজটের তীব্রতা ধারণ করে অসহনীয় পর্যায়ে। এ কারণে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়েছে কর্মব্যস্ত মানুষদের। সড়কে বাসের দেখা মিললেও সিটিং সার্ভিসের নামে অধিকাংশ বাস দরজা বন্ধ করে চলাচল করছে। তারা গণপরিবহনে সিটিং সার্ভিসের লেবাস লাগিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে না। বুধবার দুপুরের দিকে বৃষ্টি থেমে গেলে বাসা বা অফিসে ফেরার তাড়া থাকায় যাত্রীচাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে মান্ধাতার আমলের পরিবহনগুলো। লক্কড়-ঝক্কড় এসব গাড়িতে উঠতে নারীসহ যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

দুপুর একটার দিকে শাহবাগে অপেক্ষমাণ যাত্রী তাহসিন শাওন বলেন, ‘মিরপুর যাওয়ার উদ্দেশে বাসের জন্য এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করার পর একটি বাসে উঠেছি। বিকল্প অটো সার্ভিস নামের পরিবহনটি সিটিং সার্ভিসের নামে বিআরটিসি নির্ধারিত ভাড়ার তিনগুন বেশি নিয়েছে।’ এদিকে পল্টন-শাহবাগ এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেওয়ায় হাইকোর্টের সামনে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে রওয়ানা দিয়েছেন বেসরকারি একটি কোম্পানির কর্মকর্তা সাজিদ রহমান।তিনি বলেন, ‘রাস্তায় যে পরিমাণ জট তাতে মনে হচ্ছে গাড়ির চেয়ে পায়ে হেঁটে আগে অফিসে পৌঁছাতে পারবো। সে কারণে ভাড়া পরিশোধ করেও হেঁটে রওয়ানা দিয়েছি।’

গাড়ি চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টির সময় অনেক মানুষ কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। বৃষ্টি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই একযোগে বের হয়ে পড়েছেন। এখন যাত্রী বেশি থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেসক্লাবের সামনে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নতুন কিছু নয়। বৃষ্টি হলেই পুরো ঢাকাজুড়ে যানজট ও পরিবহন সংকট দেখা দেয়। আজও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’