তিস্তার ভাঙ্গনে দিশেহারা কুড়িগ্রামের মানুষ

কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তীরবর্তী মানুষজন। ছল ছল চোখ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে পাগলের মত। পানি কমে যাওয়ার পর তীব্র স্রোতে ভাঙ্গন যেন আরো ভয়ংকর রুপ ধারন করছে। এতে ভেঙে যাচ্ছে আবাদিজমিসহ বসতভিটা। গত দু’সপ্তাহের ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে স্কুল, রাস্তা, বাজার, মসজিদ-মন্দিরসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। রোববার নদীপাড়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে তিস্তার উত্তর পাড়ে শতশত মানুষ অংশ নেয়।

জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তৈয়ব খাঁ মৌজাটি পুরোটা এখন তিস্তার পেটে প্রায়। এর আগের বছরগুলো নদী ভাঙন থাকলেও এবছর তিস্তার মূলস্রোতে এই গ্রাম ঘেঁসে প্রবাহিত হওয়ায় ভাঙন নিয়েছে বিধ্বংসী রুপ। জনবসতিপূর্ণ এলকাটিতে ভাঙনের তান্ডবে তৈয়ব খাঁ গ্রামটি এখন নিশ্চহৃ হবার পথে। চলতি মাসে আড়াইশ’ বসত বাড়িসহ, তৈয়বখাঁ বাজার, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ পুকুর, সুপারী বাগান চলে গেছে নদী গর্ভে।

সরেজমিন তৈয়বখাঁ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ভাঙন কবলিতদের দুর্ভোগ। অনেকেই নদীরপাড়ে এসে বিলাপ করছেন। ঘরের জিনিসপত্র সরানোর ফুরসত মিলছেনা। খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন কেউ কেউ। টিনের ঘর সরাতে গিয়ে ফনিন্দ্রনাথ (৬৫) জানালেন, ‘২২ বছর এই ভিটায় ছিলাম। জমি ছিল, পুকুর ছিল, সুপারীর বাগান ছিল। সবই এখন নদী নিয়ে গেল। এখন নিজের থাকার জায়গা নাই।’ তৈয়বখাঁর সোমনারায়ণ এলাকার মালেকা (৫২) জানান, ‘ বেটাক ভাত দিবার পাং (পারি) নাই। অবুঝ ছওয়াক (বাচ্চা) কাম করতে ঢাকাত পাঠাইছং। এক এক করি চার ভাঙা দিলোং। এক শতক মাটি কিনি বাড়ি করছং। সেও মাটি ভাঙি গেইল।

বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে ২৫টি বাড়ি। রফিকুল, শফিক, সুলতান, মালেক, নুরজামাল, ইসমাঈল, শফিকুল, লতিফ, শান্তি, সুমন, কাবরিয়া, মাখন পরবেজ, ফনি, জগ, শচিন, লাভলু, শহিদুল, হযরত, ফুলবাবু, শুরেশ, মনিন্দ্র মেম্বার, দীনবন্ধু সরকার, ফুলবাবু-২ ও সুবাশরা আতংকে আছেন কখন তার ভিটে গিলে খায় রুদ্র তিস্তা। রাজারহাট বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম জানান, তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে এ বছর বাঁশের পাইলিং ব্যবস্থা কোন কাজে আসেনি। স্রোতের টানে ভেসে গেছে পাইলিং। ছোট ছোট বরাদ্দ দিয়ে তিস্তা নদীর ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। বড় অংকের বাজেট বরাদ্দ দিয়ে বেড়ি বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, সাময়িকভাবে ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাৎক্ষণিকভাবে বস্তা ফেলে বাঁশ দিয়ে স্পার করে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে অতিরিক্ত আরো ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ কাজে লাগানো হয়েছে। ভাঙন কবলিতদের রক্ষার্থে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি