অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের দ্রুত ফেরত আনার কর্মপন্থা নির্ধারণে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে ইউরোপ থেকে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত আনার বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়, যেখানে স্বরাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর ব্রাসেলসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাদাত হোসেন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপ অণুবিভাগের মহাপরিচালক খোরশেদ খাস্তগীরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুনের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে মায়াদুনের কাছে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুইপক্ষ টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা যাবে না।’ বৈঠক সূত্রে জানা যায়, অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত আনার পাশাপাশি তারা কেন লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে মানবেতর জীবনযাপন করার জন্য যাচ্ছে সেটি বের করার উপর জোর দেওয়া হয়।

বর্তমানে ইউরোপীয় সরকারগুলো অনিয়মিত কাউকে বসবাস করার অনুমতি দেওয়ার বিপক্ষে। অভিবাসন ঠেকানোর জন্য ওইসব দেশে শক্তিশালী জনমতও রয়েছে। আবার এদের কারণে  ইউরোপে বাংলাদেশেরও ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে দরকষাকষির সময়ে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয় সরকারকে। এ কারণে বাংলাদেশও অবৈধপথে যাওয়া তার নাগরিকদের ফেরাতে চায়।

বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশ আছে অনিয়মিত সব বাংলাদেশিকে ফেরত নিয়ে আসার। আমরা তাদের ফেরত নিয়ে আসছি এবং ফেরত নিয়ে আসবো। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ন্ড অফ প্রসিডিউর সই করার জন্য কাজ করছি।আশা করছি এটি দ্রুত সুরাহা হবে।’ তিনি বলেন, ‘এ সমস্যা অনেক দিনের। বাংলাদেশের মধ্যে একটি প্রতারক চক্র নিরীহ লোকদের ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে। এ জন্য তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ বা তারও বেশি টাকা নিচ্ছে। এরমধ্যে অনেকে রাস্তায় নিখোঁজ বা মারা যাচ্ছে। আর  যারা ইউরোপে পৌঁছাতে পারছে তারা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।’

সরকারের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত আনার জন্য একাধিক প্রস্তাব করেছে। যার মধ্যে রয়েছে একটি স্ট্যান্ডার্ন্ড অফ প্রসিডিউর (এসওপি) সই করা। বর্তমানে সরকার এসওপি তৈরির কাজ করছে।’ আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরোপে প্রতিনিধি দল পাঠানো, দূতাবাসগুলোকে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর জন্য আরও তৎপর হওয়া, নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিতকরণ ইত্যাদি।’

তিনি আরও বলেন,‘নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আমরা স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু কেউ যদি তার ঠিকানা ভুল দেয়, তবে তার নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা জটিল হয়ে পড়ে।’ সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া কাউকে ফেরত আনার কোনো উপায় নেই।