রাঙ্গামাটিতে কোরবানীর উদ্দেশ্যে পালিত ৮টি গরুকে বিষ খাইয়ে হত্যা

রাঙ্গামাটিতে কাউখালী উপজেলার নাইল্যাছড়ি গ্রামের মোঃ আব্দুল আওয়ালের এক বেকার পুত্র নাম, নজরুল ইসলাম(২৫)। বড় ভাইয়ের কথার উপর ভিত্তি করে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার কথা ভাবলেও দেশপ্রেম বারবার তাকে আঁকড়ে ধরছিলো।অবশেষে দেশপ্রেমকে সম্মান জানিয়ে ছেড়ে দিলেন বিদেশ পাড়ি দেওয়ার সেই কাল্পনিক আকাঙ্ক্ষাকে।

রাঙ্গামাটিতে কোরবানী উপলক্ষে তৈরিকৃত ৮টি গরুকে বিশ খাইয়ে হত্যা

পরবর্তীতে কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষে নিজেই উদ্যোগী হয়ে বড় ভাই মোঃআবু হানিফ এর সহযোগীতায় স্থানীয় কৃষি ব্যাংক থেকে ১৬ লাখ টাকার একটি ঋণ গ্রহন করেন।সুন্দর ভাবে গড়ে তুলেন ২৫ টি গরুর একটি ফার্ম। সাথে কর্মে ফিরে আনেন কিছু বেকার যুবককেও।১৩টি গরুকে কোরবানীর উদ্দেশ্যে মোটা তাজা করে গড়ে তুলেন তার পরিচালনায়। যার প্রতিটি বর্তমান বাজার দরে প্রায় ১লাখ ২০হাজার। কিন্তু সমাজের কিছু মানুষের তার এই সফলতার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

রাঙ্গামাটিতে কোরবানী উপলক্ষে তৈরিকৃত ৮টি গরুকে বিশ খাইয়ে হত্যা

গত ১৯শে জুলাই বুধবার উদ্যোক্তা নিজে (নজরুল) গরুকে খাবার দিয়ে কর্মচারী সহ মাগরিবের নামাজ আদায় করতে যায়। কিন্তু ফিরে এসে দেখেন বোবা প্রাণীগুলো মাটিতে পড়ে কাতর কন্ঠে ডাকছে তার মুনিবকে। পা দুটো একত্র করতে পারছে না। সমাজের ঐ নির্মম ঘাতকরা বিষ মিশিয়ে দিয়েছেন বোবা প্রাণীদের খাদ্যে। আর বিষক্রিয়া এত মারাত্মক ছিলো যে পা দুটো একত্র কররে পারছে না গরুগুলো।অবশেষে শুরু হয় মৃত্যুর এক মহা যজ্ঞ।

রাঙ্গামাটিতে কোরবানী উপলক্ষে তৈরিকৃত ৮টি গরুকে বিশ খাইয়ে হত্যা

মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে বড় আটটি গরু তার মুনিবকে বিদায় জানাই। এর সাথে ভঙ্গ হয়ে যায় নজরুলের দেশ সেবার সেই সপ্ন। সব গরুকে জবাই করতে বলেছিল প্রতিবেশীরা। কিন্তু প্রাণীর প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা তাকে বাঁধা দেয়।