চার দফা দাবিতে রাবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বাসের ট্রিপ বাড়ানো ও হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান বৃদ্ধিসহ চার দফা দাবিতে ক্লাস বাদ দিয়ে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় হাজারের অধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্লোগানে সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে হাজির হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, গণিত বিভাগের হাবিবুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের ইশতিয়াক আহমেদ, ইনফরমেশন এ্যান্ড কমিউনিকেইশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এস এম মিঠু, ফলিত গণিত বিভাগের শাহাদাত হোসেন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শাহরিয়ার আলম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মহুয়া মিতু, ইতিহাস বিভাগের ইন্দ্রজিৎ কুমার, পরিসংখ্যান বিভাগের নিয়ামুল ইসলাম, ইংরেজি বিভাগের কিংশুক কিঞ্জল ও ইসলামের ইতিাহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের আব্দুল মজিদ অন্তর প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ মোন্নাফ।

এ সময় বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত পরিবারের। তাদের কথা চিন্তা না করেই প্রশাসন খাবারের দাম ২০ থেকে ২৪ ও ১৬ থেকে ১৮ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু খাবারের মান আগের থেকে বাড়েনি। এতে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুকি দেখা দিচ্ছে। আগে বাসের ৭টি ট্রিপ থাকা অবস্থায় শিক্ষার্থীরা হুড়োহুড়ি করে যাতায়াত করতো। আগেও দাবি ছিলো বাসের ট্রিপ বাড়ানো। সেখানে ট্রিপ না বাড়িয়ে কমিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের বলতে চাই আসুন, দেখুন কিভাবে আমাদের বাসে বাদুড় ঝোলা করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। একবার ভাবুন আমাদের ভোগান্তিটা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তারা আরও বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে আমরা থাকবো, পড়াশোনা, ঘোরাঘুরি ও খেলাধূলা করবো। এখানে পুলিশ বাধা দেওয়ার কে? যখন বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে এসে দৌরাত্ম দেখায়, ছিনতাইয়ের ভয়ে সন্ধ্যায় বের হওয়া যায় না, তখন পুলিশ কোথায় যায়, তখন প্রশাসন কি করে আমরা জানতে চাই। আমরা স্বাধীনভাবে চলতে চাই, আমরা ডানা মেলে উড়তে চাই।

বক্তারা সেই সঙ্গে আরও বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই ক্যাম্পাসে হাটুপানি জমে যায়, রাস্তাগুলো অজপাড়াগায়ের রাস্তার থেকেও খারাপ অবস্থা, এসবগুলো প্রশাসন কেন সমাধাণ করছে না। বর্তমানে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার পাঁচদিন খোলা থাকে। এছাড়া রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকায় অনেক অসুবিধায় পড়তে হয়। এতে আমরা সুবিধামত গ্রন্থাগার ব্যবহার করতে পারছি না। গ্রন্থাগারটি রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানাচ্ছি। এসময় দাবিগুলো দ্রুত মানা না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন বক্তারা।