প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে সিদ্দিকুরের চোখ হারানোর দায়

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, সিদ্দিকুরের চোখ হারানোর দায় প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে। শনিবার শাহবাগে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন আয়োজিত ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশি নৃশংস হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ ও সংহতি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতি সভাপতি বাচ্চু ভুঁইয়া, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, চানচিয়া’র সমন্বয়ক আন্থনি রেমা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক কাঁকন বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান খান, ঢাকা মহানগর শাখার সহসভাপতি ইসরাত জাহানসহ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন। বক্তব্যে সাকি বলেন, সরকার ভাবছেন অন্যায়ভাবে ১২০০ ছাত্রের নামে মামলা দিয়ে গদি রক্ষা করবেন! যেকোনো আন্দোলন হলেই সরকার নার্ভাস বোধ করেন। আহত সিদ্দিকের মুখ আজ সকল ছাত্রের মুখোচ্ছবি। ১৬ কোটি মানুষের কাছে এই কৃতকর্মের জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা বলেন, স্বৈরতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে ছাত্রদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ দিয়ে সরকার একজন ছাত্রের চোখ অন্ধ করতে পারে, কিন্তু ছাত্রসমাজকে, জনগণকে দমন করতে পারবে না। হামলা-মামলায় ছাত্ররা ভয় পায় না। রাষ্ট্রীয় দমন-নিপীড়ন উপেক্ষা করে ছাত্রসমাজ সংগঠিত হচ্ছে। আরও দ্বিগুণ বেগে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ তাদের অধিকার আদায় করবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অধিভুক্ত কলেজসমূহের নীতিমালা প্রণয়নসহ সাত দফার এই ন্যায্য আন্দোলনে সারাদেশের মানুষের সমর্থন আছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ নৃশংসভাবে গুলি করে তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সিদ্দিকুরের চোখ নষ্ট করে দিয়েছে। সিদ্দিকুরের সমস্ত দায়ভার রাষ্ট্রকে নিতে হবে। আমরা এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। অন্যথায়, ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।