দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রী ধর্ষন; হাত পা বেধে পুকুরে ফেলে হত্যা চেষ্টা

মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়িতে ৮ বছর বয়সী দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে। গত সোমবার (১০ জুলাই) নশংকর গ্রামে ছাত্রীর বাড়ির নিকটে আমবাগানে খেলতে গিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (১১ জুলাই) এই ঘটনায় ছাত্রীর বাবা আল-আমিন হোসেন (৩২) থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মেয়ের বাবা আল-আমিন জানান, গত সোমবার (১০জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে আমার মেয়ে বাড়ির উত্তর দিকে রাজ্জাক মৃধার আমবাগানে খেলতে যায়। এসময় প্রতিবেশী জুয়েল মৃধার ছেলে মোঃ মাহিন মৃধা (২০) মুখ চেপে ধরে গামছা দিয়ে হাত পা বেধে বাগানের গভীরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষন করে এবং এসময় সহায়তা করেন সম্রাট(২২)। ধর্ষন শেষে আমার মেয়েকে হাত পা বাধা অবস্থায় পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। পরে চিৎকার শুনে পরিবার লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করি। রাত ৮টার দিকে টংগিবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। আসামীরা প্রভাবশালী, তাই ধরা ছোঁয়ার বাহিরে ধর্ষকরা।

এসময় তার মা তাহমিনা আক্তার জানান, আমার মেয়ের সাথে যারা এই জঘন্য কাজ করেছে তাদের বিচারের দাবী জানাই। সমাজে এখন আমাদের ভিন্ন চোখে দেখতে শুরু করবে। মেয়ের পড়ালেখার জন্য স্কুলে কিভাবে পাঠাবো, বাসা থেকে কিভাবে বের হবে তা ভাবলে কান্না আসে। ৭দিন হয়ে গেলো, কেউই ধরা পড়লো না। সিভিল সার্জন সিদ্দিকুর রহমান জানান, পুলিশ হেফাজতে মেয়টিকে নিয়ে আসলে আমরা চিকিৎসা প্রদান করি। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ধর্ষনের আলামত পাওয়া গিয়েছে। টংগিবাড়ি ও সিরাজদিখান সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার কাজি লিমা জানান, ধর্ষনের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। খুব দ্রুতই আসামীরা ধরা পরবে।

টংগীবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে যারা জড়িতরা পলাতক আছে, তাদের খুঁজতে কাজ করছে পুলিশ। এছাড়া ধর্ষকের পরিবার গাজীপুরে থাকে সেক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহের কিছু বিষয় থাকে। নারী ও শিশু ন্র্যিারতন দমন আইন ২০০০( সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(১)/৩০ ধারায় মামলা এবং ধর্ষন ও ধর্ষনের সহয়তা অপরাধ (মামলা নং-০৯/১৫৭)। তবে দ্রুত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে বলে জানান তিনি।

নশংকর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মোতালেব দেওয়ান জানান, এই ঘটনার পর থেকে মেয়েদের স্কুলে যেয়ে ভয় কাজ করছে। গ্রামঞ্চলে এসব ঘটনায় নারীদের শিক্ষা বিস্তারে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা যেভাবে তৈরি সেখানে মেয়েদের এসব ক্ষেত্রে বোঝা মনে করে। এই ঘটনায় যারা জড়িত আছেন তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাচ্ছি।

আল মাসুদ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি