ফরিদপুরে দু’বছরের ভাগ্নে নিয়ে মামা উধাও

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের বি এস ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা জাকারিয়া খানের দু’বছরের ছোট ছেলে আসিফকে রবিবার সকাল ১০ টায় তার মামা আজাদ (৩০) ঘুরতে নিয়ে যাবার কথা বলে উধাও হয়েছে বলে জানা যায়। আসিফের নানী ফাতেমার ছোট বোন আছিয়ার ছেলে আজাদ। তার বাবার নাম মো: সাহেদ।

আসিফের নানী জানায়, প্রায় বিশ বছর পূর্বে তিনি আজাদকে দেখেছেন। ঘটনার আগের দিন শনিবার আজাদ আসিফদের বাড়ী বেড়াতে আসে। বিশ বছর পর ভাগ্নেকে দেখে আনন্দে আত্বহারা হয়ে যায় সবাই। রবিবার সকালে আসিফকে নিয়ে ঘুরতে যেতে চাইলে অবলিলায় মামার সাথে যেতে দেয় বাড়ীর লোক। দীর্ঘ সময় পার হবার পর আসিফ বাড়ী ফিরে না আসলে সবাই খোঁজাখুজি করতে থাকে। সূত্র আরও জানায়, আজাদ ঢাকার মিরপুরে থাকে। সে তার আত্বীয় দবিরুদ্দীন প্রামাণিকের ডাঙ্গী গ্রামের শেখ আলমের স্ত্রী ময়নাকে ফোন করে প্রথমে তার বাড়ী যায় ও আসিফদের বাড়ীর ঠিকানা জেনে নেয়।

ঘটনার সূত্র ধরে ময়নার বাড়ী গিয়ে আজাদ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সে বলেন তারা পরস্পর আত্বীয় ১০/১২ বছর আগে ঢাকায় পাঁশাপাশি বাসায় থাকতো তারা। দীর্ঘ দিন পর হলেও সে আজাদকে চিনতে পেরেছে। তার মোবাইল নম্বর আজাদ কোথায় পেয়েছে জানতে চাইলে সে বলে, তা আমার জানা নেই। দীর্ঘ দিনপর ঐদিনই প্রথম কথা হয় তার সাথে।

অপরদিকে ঢাকায় বসবাসরত আসিফের চাচাতো নানা মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে মুঠোফেনে কথা বলে জানা যায়, সন্ধা ৬টায় আজাদ তাকে ফোন করে বলে আসিফ আমার কাছে আছে আমাকে ফোন করে বিরক্ত করো না ও ভাল আছে আমি জুস কিনে দিয়েছি। মোয়াজ্জেম তাকে অনুরোধ করে টাকা লাগে টাকা নাও কিন্তু আসিফকে বাসায় ফেরত দিয়ে যাও। তার উত্তরে আজাদ জানায়, আমি টাকা নিবনা আমি আসিফকে লালন পালন করবো। আজাদের কোন সন্তান নেই বলে জানা যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মোয়াজ্জেমের সাথে আজাদের মুঠো ফোনে কথা হচ্ছে এবং তাকে ফেরত দিতে চেয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে তিনি ঠিকানা জানাতে চাননি। মোয়াজ্জেম আজাদের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী কাজ করছেন বলে জানান।

ঘটনার খবর পেয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রামপ্রসাদ ভক্ত ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান। তিনি জানান, এ ব্যপারে এখনও কোন মামলা হয়নি। পারিবারিক অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে আমরা খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছি।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি