এ দেশে এলেই নাড়ির টান অনুভব করি : শর্মিলা ঠাকুর

এটিএন বাংলার ২১ বছরে পদার্পন উপলক্ষে আয়োজিত এক কনসার্টে যোগ দিতে তৃতীয়বারের মতো ঢাকায় এসেছিলেন উপমহাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। দেবাশীষ বিশ্বাস এবং সিথী সাহার উপস্থাপনায় আজ ঢাকার বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির গুলনকশা হলে আয়োজিত হয় এই কনসার্ট।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনপ্রিয় অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর, ভারতীয় সংগীত পরিচালক সুরকার ও সঙ্গীত শিল্পী জিৎ গাংগুলী, ভারতের কণ্ঠশিল্পী দোয়েল গোস্বামী, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান সহ আরও অনেকেই।

অভিনয় আর গ্ল্যামারের মিশেলে ষাটের দশক থেকে বলিউড মাত করে আসছেন শর্মিলা ঠাকুর। বাংলা আর হিন্দি এই দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই তিনি সফল। ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শর্মিলা ঠাকুর। বাংলাদেশ আর রাজধানী ঢাকার প্রতি তার উচ্ছাসের কমতি নেই। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে খাঁটি বাংলায় তিনি বলেন, “ঢাকা আমার খুব প্রিয় শহর। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের পরিবারের নাড়ির টান। ইতিহাস-রাজনীতি আমাদের ভাগ করে দিলেও মনের টান কমেনি। আমাদের ভাষা ও শিল্প এক ও অভিন্ন। তাই এ দেশে এলেই নাড়ির টান অনুভব করি।” এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতির আদান প্রদানের ক্ষেত্রে চলচ্চিত্রকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “চলচ্চিত্র কর্মী হিসেবে আমার আশা দুই দেশের মধ্যে আরো সাংস্কৃতিক বিনিময় হোক, যৌথ চলচ্চিত্র নির্মিত হোক। কাঁটা তারের বাঁধা যেন আদান প্রদানের প্রতিবন্ধকতা না হয়।

শর্মিলা ঠাকুর মঞ্চে আসার আগে তার অভিনীত বিভিন্ন চলচ্চিত্রের গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন অভিনেত্রী নাদিয়া, তারিন, চাঁদনী ও তাদের দল।

এছাড়াও মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে আগত সবাইকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন এভাবেই যেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সবার সাথে সবার বন্ধুত্ব বজায় থাকে। পরবর্তীতেও আবার শর্মিলা ঠাকুর ঢাকায় আসবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। এরপর এটিএন বাংলার পক্ষ থেকে তিনি শর্মিলা ঠাকুরের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। তারপর মঞ্চ মাতাতে আসেন দোয়েল গোস্বামী। বাংলা ও হিন্দি সিনেমার বিভিন্ন গান গেয়ে দর্শক মাতান তিনি।

সবশেষে মঞ্চে আসেন বাংলা ও হিন্দি গানের জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক, সুরকার ও সঙ্গীত শিল্পী জিৎ গাংগুলী। এটিই তার প্রথমবারের মতো ঢাকা সফর বলে জানান তিনি। বাংলা ও হিন্দি গানের মূর্ছনায় তিনি মোহিত করেন উপস্থিত সকলকে। জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি গান শোনান তিনি। কি করে তোকে বলব, মন মাঝিরে, হান্ড্রেড পার্সেন্ট লাভ, মন মানে না, জিয়া যায়ে না, চাহু ম্যায় ইয়া না, খামোশিয়া, ও মধু, পাগলু সহ আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় গান উপহার দেন এই শিল্পী। এটিএন এর পক্ষ থেকে তাকেও সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। তিনি এটিএন বাংলা এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

এভাবে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এটিএন বাংলার ২১তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট।